শব্দদূষণ: জরিমানার চেয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতেই জোর পরিবেশ অধিদপ্তরের
প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৬, ১২:৫২ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

শব্দদূষণে জরিমানার চেয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতেই জোর দেওয়ার তাগিদ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিবেশ অধিদপ্তর।
পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান বলেছেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে নতুন যে আইন আছে সেখানে পুলিশকে সরাসরি জরিমানা করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কেউ অতিরিক্ত মাত্রায় শব্দদূষণ করলে তারা জরিমানা করতে পারেন। আমরা জরিমানার পক্ষে কখনোই না। আমাদের প্রথমে কথা হলো আমাদের আগে অ্যাওয়ারনেস (সচেতন) আনতে হবে।
বুধবার (১৩ মে) সকালে রাজধানীর বিজয় সরণি মোড়ে ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন’-এ পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এসব কথা বলেন।
পরিবেশ অধিদপ্তরের শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প ও পরিবেশবাদী যুব সংগঠন গ্রীন ভয়েসের যৌথ উদ্যোগে এ জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, আমরা যেন শব্দদূষণ না করি। আমাদের এই ক্যাম্পেইনটা সে জন্যই। জরিমানার আগে নিজেদের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
ড. মো. লুৎফর রহমান বলেন, বর্তমানে প্রায় সব জায়গাতেই শব্দের মাত্রা ৬০ ডেসিবেলের ওপরে চলে যাচ্ছে, যা আমাদের শ্রবণশক্তির জন্য ক্ষতিকর। এই ক্যাম্পেইনের মূল উদ্দেশ্য হলো— মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা, যাতে তারা অযথা হর্ন বাজানো বন্ধ করে। পরিবেশ অধিদপ্তরের এই কার্যক্রম বর্তমানে অষ্টম দিনে রয়েছে, যা আরও দু’দিনসহ মোট ১০ দিন চলবে। এই ক্যাম্পেইনে পরিবেশ অধিদপ্তরের পাশাপাশি ডিএমপি পুলিশ ফোর্স এবং স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা শহরের কিছু এলাকাকে নীরব এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং সেসব এলাকায় ভবিষ্যতে যাতে আর হর্ন না বাজানো হয়, তা নিশ্চিত করতে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
‘শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫’ অনুযায়ী এখন থেকে নির্ধারিত মাত্রার অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টিকারী হর্ন ব্যবহার, নীরব এলাকায় হর্ন বাজানো এবং আবাসিক এলাকায় রাত ৯টার পর হর্ন ব্যবহার করলে চালকদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারবেন ট্রাফিক সার্জেন্ট বা তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এ প্রসঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান বলেন, শব্দদূষণ রোধে বর্তমানে পুলিশকে সরাসরি জরিমানা করার আইনি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই না জরিমানা করুক। তার আগে আমাদের সচেতন হতে হবে এবং শব্দদূষণ রোধ করতে হবে।
নতুন বিধিমালা (আইন) অনুযায়ী, নীরব এলাকায় হর্ন ব্যবহার বা অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টিকারী হর্ন ব্যবহারের অপরাধে সর্বোচ্চ ৩ মাসের কারাদণ্ড, অনধিক ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি চালকের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শাস্তি হিসেবে ১ পয়েন্ট দোষসূচক নম্বরও কর্তন করা হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্পের ট্রেনিং অ্যান্ড ক্যাম্পেইন স্পেশালিস্ট গাজী মহিবুর রহমান বলেন, রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন চারটি এলাকা নীরব এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া বিমানবন্দর, সচিবালয়, আগারগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় শব্দদূষণ নিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা হয়েছে। শব্দদূষণরোধে আমাদের ক্যাম্পেইন অব্যাহত থাকবে।
স্বাগত বক্তব্যে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্পের পরিচালক ফরিদ আহমেদ বলেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা পরিবর্তন হয়েছে। এ পর্যন্ত দুই কোটি টাকার মতো জরিমানা করেছে পুলিশ। আমাদের যেমন আইন মানতে হবে, তেমনি সবাইকে সচেতন হতে হবে।
স্বেচ্ছাসেবী আঁখি মণি আজকের পত্রিকাকে বলেন, সরকারি অফিস বা কার্যালয়ে ২০০ মিটারের নীরব এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু অনেক জায়গায় অযথা হর্ন বাজায়। অতিরিক্ত শব্দের ফলে উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাকসহ বিভিন্ন সমস্যা হয়। ঢাকায় সবচেয়ে বেশি শব্দদূষণ হয়।
বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে আসা ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, শব্দদূষণের কারণে অনেক গর্ভবতীদের মিসক্যারেজ (গর্ভপাত) হয়। রাজধানীর গুলিস্তান, সচিবালয় ও আজিমপুরে শব্দদূষণ বেশি হয়। আমরা এসব এলাকায় কাজ করেছি, করছিও।
তেজগাঁও কলেজের গ্রীন ভয়েসের স্বেচ্ছাসেবক মো. মাহাদী হাসান বলেন, এর আগে শব্দদূষণ রোধে আগারগাঁও, গুলশান ও বনানীতে কাজ করেছি। দেড় বছরের অধিক সময় আমাদের সচেতনতা ক্যাম্পেইন করছি।
সরকারি তিতুমীর কলেজ থেকে আসা স্বেচ্ছাসেবী মো. নূরুল আমিন বলেন, আমরা একটু সচেতন হলেই শব্দদূষণ রোধ করতে পারি। শব্দদূষণে আমাদেরই কেউ না কেউ সমস্যার মধ্যে পড়ে।
সরকারি তিতুমীর কলেজের গ্রীন ভয়েসের আহ্বায়ক ফজলে রাব্বী হাসান বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করছি যাতে মানুষকে সচেতন করে শব্দ দূষণরোধ করা যায়। শব্দদূষণের ফলে মানবজীবনে আমাদের কী কী ক্ষতি হয়, সেটা সম্পর্কেও আমরা বলছি।
হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজ থেকে আসা স্বেচ্ছাসেবী হামিদা আক্তার বলেন, শব্দদূষণ ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। এটার ফলে অনেকে শ্রবণশক্তি নষ্ট সহ মানবদেহে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হয়; যা কোনো না কোনোভাবে আপনাকে-আমাকে ভোগ করতে হবে।
