ভোটার ডেটাবেজ সুরক্ষা ও পদ্মা ব্যারেজসহ একনেকে উঠছে ১৬ প্রকল্প
প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৬, ১০:৫২ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে ১৬টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হচ্ছে। বুধবার (১৩ মে) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সভায় নির্বাচনী ডেটাবেজের নিরাপত্তা জোরদার, আধুনিকায়ন এবং পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের মতো বড় উদ্যোগগুলো নিয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে প্রকল্পগুলো পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ভোটার ডেটাবেজ সুরক্ষিত করতে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার একটি অবকাঠামো প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। ‘উপজেলা/থানা, জেলা ও আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয় এবং নির্বাচনী ডেটাবেজের জন্য সার্ভার স্টেশন নির্মাণ’ শীর্ষক এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৯২.৮৩ কোটি টাকা। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে তৈরি এই প্রকল্পের পুরো অর্থায়ন করবে সরকার। এর আওতায় একটি আঞ্চলিক, তিনটি জেলা এবং ৪৫টি উপজেলা পর্যায়ে সার্ভার স্টেশন ও কার্যালয় নির্মাণ করা হবে। মূলত ইভিএম, ব্যালট বাক্স ও ভোটার তালিকা সংরক্ষণের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নাগরিক তথ্যের গোপনীয়তা নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। নির্বাচন কমিশন বলছে, ২০০৮ সাল থেকে গড়ে ওঠা এই বিশদ ডেটাবেজটি বর্তমানে পরিচয় যাচাইয়ের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, তাই এর অবকাঠামোগত নিরাপত্তা জরুরি।
এদিনের সভায় সবচেয়ে আলোচিত ও বড় প্রকল্প হতে যাচ্ছে প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ। ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটি রাজবাড়ীর পাংশায় পদ্মা নদীর ওপর নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। ২.১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ব্যারেজের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলোর নাব্য ফিরিয়ে আনা এবং সুন্দরবন এলাকার লবণাক্ততা কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফারাক্কা ব্যারেজের প্রভাবে সৃষ্ট দীর্ঘমেয়াদি পানি সংকট মোকাবিলা এবং কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে এই প্রকল্প ভূমিকা রাখবে। এছাড়া এই ব্যারেজ থেকে ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনাও রয়েছে।
আজকের একনেক সভায় এই দুটি বড় প্রকল্প ছাড়াও আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউট সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স নির্মাণ, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের বহুতল ভবন উন্নয়ন এবং দেশের বিভিন্ন মাতৃ ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রকে ৩০ শয্যায় উন্নীত করার প্রস্তাব। তালিকায় আরও আছে হাই-টেক সিটি-২ এর অবকাঠামো নির্মাণ, বিমসটেক সচিবালয় ভবন, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবন এবং সাভার ক্যান্টনমেন্টে আবাসন কমপ্লেক্স নির্মাণের মতো প্রকল্প।
পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্যয় সাশ্রয়ের লক্ষ্যে বেশ কিছু প্রকল্পের নকশা সংশোধন ও বিলাসিতা বর্জন করে প্রস্তাবগুলো চূড়ান্ত করা হয়েছে। আজকের এই বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
