স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারায় গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা তলানিতে
প্রকাশ : ০৩ মে ২০২৬, ১৩:৪৩ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন

গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান কামাল আহমেদ বলেছেন, গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা এখন তলানিতে নেমে গেছে, যার প্রধান কারণ স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারা। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত সময়ে সরকারের হস্তক্ষেপ গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতাও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অপপ্রচার, অপতথ্য ও ভুয়া তথ্যের বিস্তার সর্বগ্রাসী রূপ নিয়েছে এমন প্রেক্ষাপটে নানামুখী নিয়ন্ত্রণ, নিপীড়ন ও করপোরেট স্বার্থের চাপে গণমাধ্যম তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রোববার (৩ মে) সকালে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) কার্যালয়ে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘জন আস্থা পুনর্নির্মাণ: বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
কামাল আহমেদ বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর আপাতত সরকারি চাপ অনুভূত না হলেও মালিকপক্ষ ও করপোরেট স্বার্থের প্রভাব এখনো বিদ্যমান।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান উপস্থিত ছিলেন। সভাটি সঞ্চালনা করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। ইউনেস্কো ও টিআইবি যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্যের বিস্তার প্রসঙ্গে কামাল আহমেদ বলেন, রাজনৈতিক, গোষ্ঠী ও ব্যবসায়িক স্বার্থে ইচ্ছাকৃতভাবে নানা বয়ান তৈরি করে এসব তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করছে।
ঢাকায় নিযুক্ত ইউনেস্কোর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ সুজান ভাইজ বলেন, বিশ্বজুড়েই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা চাপে রয়েছে, বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক সূচকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বাংলাদেশের অবস্থান অবনতি হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, এমন নিয়ন্ত্রণ কাঠামো প্রয়োজন যা গণমাধ্যমকে দমন না করে বরং সহায়তা করবে, যেমনটি সুইডেনের ক্ষেত্রে দেখা যায়।
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে ‘গুরুতরভাবে স্বাধীন নয়’ শ্রেণিতে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে নতুন সরকারের অধীনে এই পরিস্থিতি উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সুজান ভাইজ আরও বলেন, জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে তথ্যের নির্ভুলতা, নিরপেক্ষতা ও পূর্ণতা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি উল্লেখ করেন, গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে কোনো সাংবাদিক নিহত না হওয়া একটি ইতিবাচক দিক। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতেও সাংবাদিকরা যেন নিরাপদে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
