জিডিপিতে বিমা খাতের এত কম অবদান গ্রহণযোগ্য নয়: রুমিন ফারহানা

দেশে ৮২ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি

প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৩০ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন

জিডিপিতে বিমা খাতের এত কম অবদান গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১০ অধিকতর সংশোধনের জন্য [অর্থমন্ত্রী বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) বিল, ২০২৬] বিশেষ কমিটির সুপারিশ বিবেচনার প্রস্তাব দেন।

তবে এই বিলের ওপর আপত্তি জানান রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বীমা খাত নিয়ে যদি আমরা নির্মোহভাবে আলোচনা করি, তাহলে বলতে হয় বিমা খাতের অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। উন্নত দেশে যেখানে জিডিপিতে বিমা খাতের অবদান ৮ থেকে ১০ শতাংশ, বাংলাদেশে সেখানে মাত্র শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ।

জিডিপিতে বিমা খাতের অবদান কেবল পরিসংখ্যান দিয়ে বোঝানো সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, এটা গ্রহণযোগ্যও নয়। বাংলাদেশের কাছাকাছি দেশের, এমনকি প্রতিবেশী দেশগুলো—দক্ষিণ এশিয়ায় মধ্যে জিডিপিতে আমাদের বিমা খাতের অবদান সর্বনিম্ন।

পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ভারতের মতো একটি দেশে বিমার যে শিল্প, সেখানে কোম্পানির সংখ্যা আমাদের চেয়ে কম। অথচ আমাদের এই ছোট্ট দেশে ৮২টি ইনস্যুরেন্স কোম্পানি কাজ করছে। সাধারণ বিমা, জীবন বিমা, সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তারা যে বিমা কোম্পানি তৈরি করেছেন, তার জীবন বিমাও আছে বা সাধারণ ঘরানার বিমাও আছে। এত বেশি সংখ্যক কোম্পানি থাকার পরও আমাদের দেশের জিডিপিতে বিমা খাতের অবদান এত কম, যেটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। হয়তো তারা সুনির্দিষ্ট কিছু বাছাই করা গ্রাহক বা ব্যবসার ওপর নির্ভর করে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছে। এ দেশের আপামর সাধারণ মানুষকে বিমা শিল্পের আওতায় নিয়ে আসতে হলে প্রয়োজন একটি সেবা, যা ঝুঁকি ভালো ব্যবস্থাপনা করে।

দক্ষতার অভাবে সাধারণ মানুষ অনেক সময় সুবিধা পায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বিমা শিল্প খুবই কঠিন একটি সময় পার করছে। অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি, সুশাসনের অভাব এবং সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় অনেকগুলো ইনস্যুরেন্স কোম্পানির জন্ম হয়েছে। যারা আইন-কানুনের কোনো তোয়াক্কা করে না। এ জন্য ইনস্যুরেন্স ইন্ডাস্ট্রি আজ এখানে এসে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আবরও বলেন, বর্তমান সরকার বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুসরণ করতে চাচ্ছে বলেও জানান আমীর খসরু। পরিবর্তনগুলো আনার জন্য আমাদের বিমা নিয়ন্ত্রক সংস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে। এখানে যোগ্য ব্যক্তিদের আনতে হবে। কারণ বিমা শিল্প শুধু বিমার জন্য নয়। বিমাতে যে অর্থ জমা হয়, সেই অর্থ বাংলাদেশে ও দেশের বাইরে বিনিয়োগের একটা বড় সম্ভাবনা আছে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা সেই জায়গায় যেতে পারছি না। সে জন্য এই সংশোধন করতে হবে, পরিবর্তন আনতে হবে, বিমা শিল্পকে স্বচ্ছ করতে হবে।