লিফলেটে জুলাই সনদ নেই, জামায়াতের অবস্থান আধা প্রেম আধা প্রতারণা

প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:০৫ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

সংসদকে আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন, ১১ দলীয় জোটের সাম্প্রতিক লিফলেটে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই সনদ সংক্রান্ত সুপারিশের কোনো উল্লেখ নেই। একইসঙ্গে গণভোট ইস্যুতে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থানকে তিনি ‘আধা প্রেম ও আধা প্রতারণা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। 

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামের আগে ‘বীর’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, আমি বিরোধীদলীয় নেতাসহ বিরোধী দলের সকল সংসদ সদস্যকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। কারণ, ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন-২০২৬’-এ বীর মুক্তিযোদ্ধার যে সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে, তার বিরোধিতা করেনি জামায়াতে ইসলামী।

তিনি বলেন, এই আইনের সংশোধনীতে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসরের (মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলামী, আল-বদর, আল-শামস ও রাজাকার) বিরুদ্ধে সংগ্রামকারীদের বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এনসিপিও এই আইনে লিখিতভাবে অনুসমর্থন জানিয়েছে। আইনের এই প্রয়োগ ও ব্যাখ্যার মাধ্যমে এটিই প্রতিষ্ঠিত হলো যে, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে কারা বিরোধিতা করেছিল এবং কারা খুন ও ধর্ষণের মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল। 

আইনমন্ত্রী বলেন, আজ যারা এই সংসদে উপস্থিত হয়েছি, মাত্র দুই বছর আগেও আমরা নির্যাতিতের পক্ষে ছিলাম। তখন বাংলাদেশ দুই ভাগে বিভক্ত ছিল, একদিকে ছিল গুটিকয়েক লুটেরা ও খুনি ফ্যাসিস্ট এবং অন্যদিকে ছিলাম আমরা সাধারণ জনগণ। এই লড়াইয়ে আপনারা এবং আমরা সবাই একসঙ্গে ছিলাম।

তিনি বলেন, বর্তমান সংসদ এমন একটি রাষ্ট্র গড়তে চায়, যা ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পাশাপাশি ৯০ এবং ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করবে। 

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ফরাসি বিপ্লব বা আরব বসন্তের মতো বড় গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে জাতীয় সমঝোতা হয়, তার ভিত্তি হওয়া উচিত সেই বিপ্লবের চেতনা। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, ১১ দলীয় জোটের দেওয়া লিফলেটে সংস্কারের কথা থাকলেও সেখানে ‘জুলাই সনদ’-এর কোনো উল্লেখ নেই। ৩৩টি রাজনৈতিক দলের স্বাক্ষরিত এই সনদ থেকে বিচ্যুত হয়ে তারা এখন গণভোটের কথা বলছে, যা সংবিধান ও আইনের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা।

আইনমন্ত্রী বিএনপির অবস্থান সম্পর্কে বলেন, তিনটি প্রশ্নের ব্যাপারে তাদের কোনো আপত্তি ছিল না। তবে বাকি বিষয়টিকে তিনি ‘আধা প্রেম ও আধা প্রতারণা’ হিসেবে অভিহিত করেন। তার মতে, বিএনপি এটি করতে চায় বলে যে প্রচার করছে তা ‘আধা প্রেম’, যা মূলত জুলাই সনদের অংশ। আর ‘আধা প্রতারণা’ হলো, বিষয়টি জুলাই সনদে থাকলেও এটি আদতে বিএনপির জন্য প্রাসঙ্গিক নয়; বরং তাদের ‘নোট অব ডিসেন্ট’-এর কারণেই এটি প্রযোজ্য হবে।

জামায়াতের সমালোচনা করে আইনমন্ত্রী বলেন, আমি অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলছি, নির্বাচনের মাঠে মা-বোনদের কাছে ভোট চাইতে গিয়ে শুনেছি কেউ কেউ নাকি বেহেশতের টিকিট বিক্রি করছেন। আমি নিজেই এর সাক্ষী।

স্পিকারের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, যদি এসব দাবি ভুয়া হয়ে থাকে, তবে তাদের ধন্যবাদ। এর মাধ্যমে জাতি বুঝতে পারছে, যারা এক সময় বলেছিলেন ‘দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে বেহেশতের টিকিট পাওয়া যাবে’, তারা আজ স্বীকার করে নিচ্ছেন যে তারা বেহেশতের টিকিটের ধারক নন।


আমার বার্তা/এমই