মোড়কে সতর্কতামূলক পুষ্টি তথ্য থাকলে খাদ্য নির্বাচন সহজ হবে ভোক্তার

প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:১১ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

দেশে প্রায় ৯৭ শতাংশ মানুষ সপ্তাহে অন্তত একবার প্যাকেটজাত খাদ্য গ্রহণ করলেও সঠিক তথ্যের অভাবে তারা সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন পলিসি এক্সপার্ট তাইফুর রহমান। তিনি বলেন, মোড়কের সামনের অংশে সহজ, স্পষ্ট ও সতর্কতামূলক পুষ্টি তথ্য প্রদর্শন ভোক্তাদের স্বাস্থ্যকর খাদ্য নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের প্রধান কার্যালয়ের সভাকক্ষে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের আয়োজনে ও গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের সহযোগিতায় প্যাকেটজাত খাদ্যের সম্মুখভাগে সহজবোধ্য সতর্কতামূলক লেবেল বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশে খাদ্যজনিত অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে খাদ্যপণ্যের মোড়কের সামনের অংশে (ফ্রন্ট-অব-প্যাক লেবেলিং) সহজবোধ্য পুষ্টি তথ্য ও লেবেল প্রদর্শন চালুর উপকারিতা সম্পর্কে কর্মশালায় তুলে ধরা হয়।

কর্মশালায় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য ও ওয়াশ সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ এবং রিডিউসিং ডিমান্ড ফর আনহেলদি ফুডের বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস।

এ সময় তারা বলেন, ইতোমধ্যে বিশ্বের ৪৪টি দেশে ফ্রন্ট-অব-প্যাক লেবেলিং চালু হয়েছে, যার মধ্যে ১০টি দেশে এটি বাধ্যতামূলক। এসব দেশে ভোক্তাদের খাদ্য নির্বাচনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ কমেছে। একই সঙ্গে খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও পণ্যের গুণগত মান উন্নয়নে উদ্যোগী হয়েছে।

বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা ও দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং আইইডিসিআরের সাবেক উপদেষ্টা ডা. এম মুশতাক হোসেন বলেন, ফ্রন্ট-অব-প্যাক লেবেলিং কেবল একটি লেবেলিং পদ্ধতি নয়। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ। এর বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত চিনি, লবণ (সোডিয়াম), স্যাচুরেটেড ও ট্রান্স-ফ্যাটসমৃদ্ধ অতি প্রক্রিয়াজাত খাদ্য গ্রহণের ফলে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও স্থূলতাসহ অসংক্রামক রোগ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭০–৭১ শতাংশই এসব রোগের কারণে ঘটে।

পলিসি এক্সপার্ট তাইফুর রহমান বলেন, প্যাকেটজাত খাদ্যের পেছনের জটিল পুষ্টি তথ্য অধিকাংশ ভোক্তার জন্য বোধগম্য নয়। দেশে প্রায় ৯৭ শতাংশ মানুষ সপ্তাহে অন্তত একবার প্যাকেটজাত খাদ্য গ্রহণ করলেও সঠিক তথ্যের অভাবে তারা সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। এ প্রেক্ষাপটে মোড়কের সামনের অংশে সহজ, স্পষ্ট ও সতর্কতামূলক পুষ্টি তথ্য প্রদর্শন ভোক্তাদের স্বাস্থ্যকর খাদ্য নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রকল্প সমন্বয়কারী মাহবুবা রহমানের সঞ্চালনায় কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন— সেন্টার ফর ল অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও জনস্বাস্থ্য নীতি বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম, ভাইটাল স্ট্রাটেজিসের টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার আমিনুল ইসলাম সুজন, ওয়ার্ক ফর বেটার বাংলাদেশের হেড অব প্রোগ্রাম সৈয়দা অনন্যা রহমান, ইয়ুথ পলিসি ফোরামের সিনিয়র অফিসার সাদ ইবনে ওয়ালিদ, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর মো. বজলুর রহমান, বাংলাভিশনের সিনিয়র নিউজ এডিটর আবু রুশদ মো. রুহুল আমিন, একাত্তর টিভির চিফ রিপোর্টার শাহনাজ শারমিন, স্পেশাল করেসপেন্ডন্ট সুশান্ত সিনহা।


আমার বার্তা/এমই