বাবা দিবসে সন্তানের চোখে বাবা

প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৬, ১৬:৩৬ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

প্রতিবছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বাবা দিবস। সন্তানের জীবনে বাবার অবদান, ত্যাগ ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এই বিশেষ দিনের আয়োজন। একজন বাবা শুধু পরিবারের অভিভাবক নন; তিনি সন্তানের প্রথম শিক্ষক, নির্ভরতার আশ্রয় এবং জীবনের কঠিন পথে সাহস জোগানো একজন পথপ্রদর্শক। বাবা দিবস উপলক্ষে বাবাকে ঘিরে কয়েকজন সন্তানের আবেগ, স্মৃতি ও কৃতজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন সাদিয়া সুলতানা রিমি।

বাবা: নীরব ভালোবাসার অন্য নাম

বাড়ির সবচেয়ে শক্ত মানুষটিকে আমরা সাধারণত কাঁদতে দেখি না। তিনি নিজের ক্লান্তি, দুশ্চিন্তা আর কষ্টগুলো আড়াল করে পরিবারের জন্য ছায়া হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। তিনি বাবা। একজন বাবা সন্তানের হাসির জন্য নিজের অনেক ইচ্ছা-স্বপ্ন ত্যাগ করেন। সংসারের বোঝা কাঁধে নিয়ে দিনের পর দিন পরিশ্রম করেন, অথচ বিনিময়ে খুব বেশি কিছু চান না। সন্তানের সাফল্যই যেন তাঁর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। অনেক সময় আমরা মায়ের ভালোবাসা সহজেই দেখতে পাই, কিন্তু বাবার ভালোবাসা লুকিয়ে থাকে দায়িত্বের আড়ালে, নীরব ত্যাগের ভেতরে। বাবা দিবস শুধু শুভেচ্ছা জানানোর দিন নয়, এটি বাবার অবদান ও সংগ্রামের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিন। পৃথিবীর সব বাবার প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা। কারণ, পরিবারের সুখের জন্য নিঃশব্দে সবচেয়ে বেশি লড়াই করা মানুষটির নামই বাবা।

‎নুসরাত জাহান স্মরনীকা
‎শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
‎জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

বাবা মানেই রিয়েল লাইফ সুপারহিরো 

বাইরে থেকে যাকে এক অনুভূতিহীন জীব মনে হয়, ভেতরে উকি দিলে বোঝা যাবে — তার মন যেন তুলোর চেয়েও কোমল। পূর্বে যাকে বিরক্তির কারণ বোধ হত, বর্তমানে একটা সময় পর বুঝতে পারছি, উনিই ঠিক ছিলেন। জীবন সম্পৃক্ত তার প্রত্যেকটি উপদেশ-পরামর্শ শতভাগ সঠিক ছিল। যাকে নিয়ে আমাদের হাজার অভিযোগ, ক্রান্তিলগ্নে তিনিই আমাদের বিপদের মুখ থেকে ফিরিয়ে আনেন। এক পোশাকে বছর পার করে দেওয়া ব্যক্তিটি, ১০ টাকা বাঁচাতে গিয়ে ২০ মিনিট হেঁটে আসা ব্যক্তিটি, নিজের সকল সুখ-শান্তি বিসর্জন দেওয়া ব্যক্তিটি যখন পরিবারের প্রয়োজন দেখতে পায়, তখন দুনিয়ার সকল দানশীল মিলেও তার সমান হতে পারবেন না। এতকিছু সত্বেও আমরা তাকে ভুল বুঝি! এজন্য সত্যিই আমরা লজ্জিত। যে কথাটি কখনোই বলা হয় না, আজ ষোলো কোটি মানুষের সামনে বলব, "বাবা, তোমায় আমি ভালোবাসি।"

হিমেল আহমেদ, 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
হিসাববিজ্ঞান বিভাগ

বাবা: ত্যাগের ইতিহাসে এক মহান কিংবদন্তি

"বাবা মানে তপ্ত মরুর পাথর খোলসে বটবৃক্ষের ছায়া,বাবা মানে অগ্নিস্থলে জ্যোতিস্কতলে হিম শীতল এক মায়া।"  'বাবা' দুই অক্ষরের এই শব্দটা কতোটা কঠিন কোমল মায়াময় এবং ভারি তা প্রতিটি সন্তান জীবনের কোনো না কোনো সময় গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারে। এটি জীবনে সবচেয়ে নির্ভরতার একটি নাম। যিনি জীবনের সব ঝড় ঝঞ্ঝা শত প্রতিকূলতা রুখে দিতে নীরবে কঠিন ছায়ামূর্তির মতো আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন। ছোট্টবেলার নির্ভরতার সেই কঠিন হাতটি আমাদের দুর্গম সময়ে সাহসের ছায়া প্রদান করে।

বাবারা নিজের সমস্ত স্বপ্ন বির্সজন দিয়ে আমাদের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখেন। তিন একজন সাধারণ মানুষ নয় তিনি সন্তানের জীবন ইতিহাসের মহানায়ক, হার না মানা এক অকুতোভয়– নীরব যোদ্ধা। তার ঘাম, ত্যাগ, শ্রম আমাদের ভবিষ্যতের ভিত্তি।

বাবাকে নিয়ে অনুভূতি লিখে শেষ করা সম্ভব নয়। বাবা থাকলে পুরো পৃথিবীটা নিরাপদ লাগে। বাবা তোমার কাছে সবচেয়ে বেশি কৃতজ্ঞ। তুমি আমাকে পরিচয় দিয়েছো– একটা নাম, একটা অস্তিত্ব, একটি জায়গা এ পৃথিবীতে দাঁড়ানোর। বাবা তুমি আমাকে একটি জীবন দিয়েছো– এটাই সবচেয়ে বড় দান। বাবার ঋণ জীবনের বিনিময়েও কখনো শোধ করা সম্ভব হবে নাহ।

সজিব হোসেন 
বাংলা বিভাগ, ঢাকা কলেজ।


পরিশ্রান্ত বাবার হাতে গড়া আমার গল্প

এক কঠিন অস্তিত্বের অবয়বের নাম "বাবা"। যার সারাটা জীবন কেটে যায় "বাবা" শব্দের ভার বহন করতে করতে, সন্তানের মুখে হাসি ফুটাতে আর একবুক ভালোবাসার পরশ এঁকে দিতে। তার অক্লান্ত পরিশ্রমের নেই কোন চাহিদা, অনুরাগ আর অভিব্যক্তি। তাঁর নিঃস্বার্থ পরিশ্রমের কথা বলতে গেলে উঠে আসে পুরোনো দিনের সেই স্মৃতির কথা। যেখানে লুকিয়ে আছে কষ্টের শরীরে ভিজে থাকা ঘামে হাসি ফুটিয়ে রাখা নির্মল চেহারা।সকালের খাবার টুকু না খেতে পারলেও সন্তানকে টিফিন দিয়ে যত্নসহকারে স্কুলে দিয়ে আসতেন। রোদ-বৃষ্টিতে স্নান করে নিজেকে পুড়াতেন তবুও সন্তানের গায়ে এক ফোটা দুঃখের ছোয়া লাগতে দিতেন না। নিজের সকল শখ তিনি বিসর্জন দিয়ে দেন সন্তানের লালন-পালনে, তার ছোট ছোট আবদার পূরণে আর উচ্চস্বপ্ন পূরণে। ক্লান্ত,শ্রান্ত সেই শরীর যখন বার্ধক্যে গিয়ে ঠেকে তখন বাবার সেই সুঠাম দেহ বলিরেখাযুক্ত ত্বকে পরিণত হয়। কন্ঠের সেই তেজ নিস্তেজ হতে থাকে সন্তানকে তার সর্বোচ্চ দিতে দিতে। তবুও তিনি তার শেষ নিঃশ্বাসেও সন্তানকে আঁকড়ে তার মুখে হাসি টানতে দ্বিধাবোধ করেন না।

জান্নাতুল মাওয়া (রিফাত)
ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগ, ইডেন মহিলা কলেজ


আমার বার্তা/এমই