সোলার প্যানেল ব্যবহারে এসি-ফ্রিজ চালানো যায়?

প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০২৬, ১৬:২৩ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

বিদ্যুতের দাম বাড়া, লোডশেডিং এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানির প্রতি আগ্রহ সব মিলিয়ে বাংলাদেশে অনেকেই এখন বাসাবাড়িতে সোলার প্যানেল ব্যবহারের কথা ভাবছেন। বিশেষ করে গরমের সময়ে এসি ও ফ্রিজের মতো প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক যন্ত্র সোলার বিদ্যুতে চালানো সম্ভব কি না, তা নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। প্রশ্ন হলো, শুধু সোলার প্যানেল বসালেই কি এসি-ফ্রিজ চালানো যাবে?

সংক্ষেপে বললে, হ্যাঁ, সঠিক ক্ষমতার সোলার সিস্টেম থাকলে এসি ও ফ্রিজ দুটোই চালানো সম্ভব। তবে এর জন্য শুধু প্যানেল নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী ইনভার্টার, ব্যাটারি, চার্জ কন্ট্রোলার এবং সঠিক ওয়্যারিংসহ পুরো সিস্টেম পরিকল্পনা করতে হবে।

ফ্রিজ চালানো তুলনামূলক সহজ

ফ্রিজ এমন একটি যন্ত্র, যা সারাক্ষণ একই মাত্রায় বিদ্যুৎ খরচ করে না। কম্প্রেসর প্রয়োজন অনুযায়ী চালু ও বন্ধ হয়। ফলে একটি সাধারণ ফ্রিজকে সোলার সিস্টেমে চালানো তুলনামূলকভাবে সহজ। তবে ফ্রিজ চালুর সময় কম্প্রেসর একসঙ্গে বেশি বিদ্যুৎ টানতে পারে। এই অতিরিক্ত স্টার্টিং লোড সামলানোর মতো ক্ষমতা ইনভার্টারের থাকতে হবে। বিশেষ করে পুরোনো বা কম দক্ষ ফ্রিজের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ।
এসি চালাতে প্রয়োজন বেশি বিদ্যুৎ

এসি চালানোর ক্ষেত্রে বিষয়টি একটু জটিল। একটি সাধারণ ১ টন এসি ঘণ্টায় কত বিদ্যুৎ খরচ করবে, তা নির্ভর করে এসির প্রযুক্তি, এনার্জি দক্ষতা, ঘরের আয়তন, বাইরের তাপমাত্রা এবং কতক্ষণ কম্প্রেসর চলছে এসবের ওপর। ইনভার্টার এসি তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক। কারণ প্রয়োজন অনুযায়ী কম্প্রেসরের গতি কম-বেশি করতে পারে। ফলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এটি প্রচলিত নন-ইনভার্টার এসির তুলনায় কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারে।

এখানে নির্দিষ্ট একটি সংখ্যা সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। কারণ দিনে কত ঘণ্টা এসি চলবে, ফ্রিজের বিদ্যুৎ খরচ কত, দিনে কত ঘণ্টা ভালো সূর্যালোক পাওয়া যায় এবং ব্যাটারি ব্যবহার করা হবে কি না এসবের ওপর সোলার সিস্টেমের আকার নির্ভর করে।

উদাহরণ হিসেবে, একটি বাসায় যদি একটি ফ্রিজের পাশাপাশি ১ টন এসি কয়েক ঘণ্টা চালানোর পরিকল্পনা থাকে, তাহলে শুধু ছোট ক্ষমতার ৫০০ বা ৬০০ ওয়াটের একটি-দুটি প্যানেল যথেষ্ট হবে না। এসির বড় বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে কয়েক কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার অ্যারে প্রয়োজন হতে পারে। পাশাপাশি ইনভার্টারকেও এসি ও ফ্রিজের সম্মিলিত লোড এবং তাদের স্টার্টিং লোড সামলানোর মতো ক্ষমতাসম্পন্ন হতে হবে।
ব্যাটারি লাগবে কি?

দিনের বেলায় সূর্যের আলো থাকলে সোলার প্যানেল সরাসরি বিদ্যুৎ উৎপাদন করে এসি ও ফ্রিজ চালাতে পারে। কিন্তু রাতে এসি চালাতে চাইলে ব্যাটারি প্রয়োজন হবে, যদি গ্রিডের বিদ্যুৎ বা অন্য কোনো ব্যাকআপ ব্যবস্থা না থাকে।এখানেই সোলার সিস্টেমের খরচ অনেকটা বেড়ে যেতে পারে। কারণ এসি কয়েক ঘণ্টা চালানোর জন্য বড় ক্ষমতার ব্যাটারি দরকার হতে পারে। ব্যাটারির ক্ষমতা নির্ধারণের সময় শুধু মোট ওয়াট নয়, কত ঘণ্টা ব্যাকআপ প্রয়োজন সেটিও হিসাব করতে হবে।

শুধু প্যানেল কিনলেই হবে না

সোলার সিস্টেম বসানোর আগে বাড়ির মোট বিদ্যুৎ ব্যবহার হিসাব করা জরুরি। এসি, ফ্রিজ, ফ্যান, লাইট, টিভি, পানির পাম্পসহ কোন যন্ত্র কতক্ষণ চলে, তার একটি তালিকা তৈরি করতে হবে। এরপর মোট দৈনিক বিদ্যুৎ চাহিদা হিসাব করে প্যানেল, ইনভার্টার ও ব্যাটারির ক্ষমতা নির্ধারণ করা উচিত।

প্যানেলের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। ছায়াযুক্ত জায়গায় প্যানেল বসালে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। তাই ছাদে এমন জায়গা নির্বাচন করতে হবে যেখানে দিনের বড় একটি সময় সরাসরি সূর্যের আলো পাওয়া যায়।

সোলার প্যানেল ব্যবহারে এসি-ফ্রিজ চালানো যায়? 

বিদ্যুতের দাম বাড়া, লোডশেডিং এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানির প্রতি আগ্রহ সব মিলিয়ে বাংলাদেশে অনেকেই এখন বাসাবাড়িতে সোলার প্যানেল ব্যবহারের কথা ভাবছেন। বিশেষ করে গরমের সময়ে এসি ও ফ্রিজের মতো প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক যন্ত্র সোলার বিদ্যুতে চালানো সম্ভব কি না, তা নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। প্রশ্ন হলো, শুধু সোলার প্যানেল বসালেই কি এসি-ফ্রিজ চালানো যাবে?

সংক্ষেপে বললে, হ্যাঁ, সঠিক ক্ষমতার সোলার সিস্টেম থাকলে এসি ও ফ্রিজ দুটোই চালানো সম্ভব। তবে এর জন্য শুধু প্যানেল নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী ইনভার্টার, ব্যাটারি, চার্জ কন্ট্রোলার এবং সঠিক ওয়্যারিংসহ পুরো সিস্টেম পরিকল্পনা করতে হবে।

ফ্রিজ চালানো তুলনামূলক সহজ

ফ্রিজ এমন একটি যন্ত্র, যা সারাক্ষণ একই মাত্রায় বিদ্যুৎ খরচ করে না। কম্প্রেসর প্রয়োজন অনুযায়ী চালু ও বন্ধ হয়। ফলে একটি সাধারণ ফ্রিজকে সোলার সিস্টেমে চালানো তুলনামূলকভাবে সহজ। তবে ফ্রিজ চালুর সময় কম্প্রেসর একসঙ্গে বেশি বিদ্যুৎ টানতে পারে। এই অতিরিক্ত স্টার্টিং লোড সামলানোর মতো ক্ষমতা ইনভার্টারের থাকতে হবে। বিশেষ করে পুরোনো বা কম দক্ষ ফ্রিজের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ।
এসি চালাতে প্রয়োজন বেশি বিদ্যুৎ

এসি চালানোর ক্ষেত্রে বিষয়টি একটু জটিল। একটি সাধারণ ১ টন এসি ঘণ্টায় কত বিদ্যুৎ খরচ করবে, তা নির্ভর করে এসির প্রযুক্তি, এনার্জি দক্ষতা, ঘরের আয়তন, বাইরের তাপমাত্রা এবং কতক্ষণ কম্প্রেসর চলছে এসবের ওপর। ইনভার্টার এসি তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক। কারণ প্রয়োজন অনুযায়ী কম্প্রেসরের গতি কম-বেশি করতে পারে। ফলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এটি প্রচলিত নন-ইনভার্টার এসির তুলনায় কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারে।

এখানে নির্দিষ্ট একটি সংখ্যা সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। কারণ দিনে কত ঘণ্টা এসি চলবে, ফ্রিজের বিদ্যুৎ খরচ কত, দিনে কত ঘণ্টা ভালো সূর্যালোক পাওয়া যায় এবং ব্যাটারি ব্যবহার করা হবে কি না এসবের ওপর সোলার সিস্টেমের আকার নির্ভর করে।

উদাহরণ হিসেবে, একটি বাসায় যদি একটি ফ্রিজের পাশাপাশি ১ টন এসি কয়েক ঘণ্টা চালানোর পরিকল্পনা থাকে, তাহলে শুধু ছোট ক্ষমতার ৫০০ বা ৬০০ ওয়াটের একটি-দুটি প্যানেল যথেষ্ট হবে না। এসির বড় বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে কয়েক কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার অ্যারে প্রয়োজন হতে পারে। পাশাপাশি ইনভার্টারকেও এসি ও ফ্রিজের সম্মিলিত লোড এবং তাদের স্টার্টিং লোড সামলানোর মতো ক্ষমতাসম্পন্ন হতে হবে।
ব্যাটারি লাগবে কি?

দিনের বেলায় সূর্যের আলো থাকলে সোলার প্যানেল সরাসরি বিদ্যুৎ উৎপাদন করে এসি ও ফ্রিজ চালাতে পারে। কিন্তু রাতে এসি চালাতে চাইলে ব্যাটারি প্রয়োজন হবে, যদি গ্রিডের বিদ্যুৎ বা অন্য কোনো ব্যাকআপ ব্যবস্থা না থাকে।এখানেই সোলার সিস্টেমের খরচ অনেকটা বেড়ে যেতে পারে। কারণ এসি কয়েক ঘণ্টা চালানোর জন্য বড় ক্ষমতার ব্যাটারি দরকার হতে পারে। ব্যাটারির ক্ষমতা নির্ধারণের সময় শুধু মোট ওয়াট নয়, কত ঘণ্টা ব্যাকআপ প্রয়োজন সেটিও হিসাব করতে হবে।

শুধু প্যানেল কিনলেই হবে না

সোলার সিস্টেম বসানোর আগে বাড়ির মোট বিদ্যুৎ ব্যবহার হিসাব করা জরুরি। এসি, ফ্রিজ, ফ্যান, লাইট, টিভি, পানির পাম্পসহ কোন যন্ত্র কতক্ষণ চলে, তার একটি তালিকা তৈরি করতে হবে। এরপর মোট দৈনিক বিদ্যুৎ চাহিদা হিসাব করে প্যানেল, ইনভার্টার ও ব্যাটারির ক্ষমতা নির্ধারণ করা উচিত।

প্যানেলের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। ছায়াযুক্ত জায়গায় প্যানেল বসালে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। তাই ছাদে এমন জায়গা নির্বাচন করতে হবে যেখানে দিনের বড় একটি সময় সরাসরি সূর্যের আলো পাওয়া যায়।