সৌদি আরবকে রক্ষায় যে কোনো পর্যায় পর্যন্ত যেতে প্রস্তুত পাকিস্তান

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫২ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষায় ‘যে কোনো পর্যায়’ পর্যন্ত যেতে প্রস্তুত পাকিস্তান। দেশটির সামরিক বাহিনীর প্রধান মুখপাত্র বলেছেন, রিয়াদের নিরাপত্তার বিষয়ে ইসলামাবাদের অঙ্গীকার পুরোপুরি ‘শর্তহীন’। মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তাও এই প্রতিশ্রুতির আওতাভুক্ত বলে জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার আরব নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ বিভাগের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরি এসব কথা বলেন। আহমেদ শরীফ চৌধুরি বলেন, ‘পাকিস্তান কূটনৈতিক ও সামরিক-দুই দিক থেকেই সৌদি আরবের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে।’

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধের বিস্তৃতি এবং এর ফলে বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগের মধ্যে সৌদি আরবে ইয়েমেনের হুথিদের সাম্প্রতিক হামলার পর পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এ প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর তায়েফের আকাশে একটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়। পরে ড্রোনটির ধ্বংসাবশেষের আঘাতে এক ইয়েমেনি নাগরিক নিহত হন।

গত সপ্তাহে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে লড়াই তীব্র হওয়ার পর দেশটিতে হুথিদের ধারাবাহিক হামলায় এটিই প্রথম মৃত্যুর ঘটনা। এর আগে এসব হামলায় ৮০ জনের বেশি মানুষ আহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল সৌদি আরব।

সৌদি আরবের নিরাপত্তার বিষয়ে পাকিস্তানের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে আইএসপিআর মহাপরিচালক বলেন, এর মধ্যে মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তাও রয়েছে। তার ভাষায়, ‘আমরা সেখানে হারামাইন শরিফাইনের সুরক্ষায় নিয়োজিত আছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ নিয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ থাকা উচিত নয়। সৌদি আরবের ওপর যে কোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পাকিস্তান প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান অব্যাহত রাখবে।’

লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরি বলেন, সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষায় পাকিস্তান নিঃশর্তভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দুই দেশের সম্পর্ককে তিনি ‘আবেগপূর্ণ, গভীর, ঐতিহাসিক এবং অটুট’ বলে বর্ণনা করেন।

এদিকে পশ্চিম এশিয়ার চলমান পরিস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য পাকিস্তান আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, আলোচনার মাধ্যমে সংঘাতের সমাধান খুঁজতে ইসলামাবাদ আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে সার্বিক যোগাযোগ করছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর পশ্চিম এশিয়ার সংকটে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর একটি হিসেবে সক্রিয় হয়ে ওঠে।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতা ও সহযোগিতায় দীর্ঘ আলোচনার পর জুন মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)’ স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।