মক্কা চুক্তি : ইয়েমেনের হুথিদের সতর্কবার্তা দিলো পাকিস্তান

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:০৪ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

সৌদি আরবের সঙ্গে স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহম্মদ আসিফ। তিনি বলেছেন, সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে যে কোনো আগ্রাসী হামলা মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে সক্রিয় করে তুলতে পারে।

গতকাল মঙ্গলবার পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “জিও নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আসিফ বলেন, "আমরা চুক্তির শর্তাবলি মেনে চলতে বাধ্য এবং সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায়, কোনো আগ্রাসন চালানো হলে আমরা এই চুক্তির প্রতি সম্মান জানাব। এ বিষয়ে কোনো অস্পষ্টতা থাকার সুযোগ নেই। হুথিদের বোঝা উচিত যে তাদের কর্মকাণ্ডের ফলে চুক্তিটি কার্যকর হয়ে উঠতে পারে।”

গত ১৭ সেপ্টেম্বর মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মধ্যে ত্রিপাক্ষিক মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির প্রধান শর্ত বা সারবস্তু হলো— চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী কোনো দেশ যদি বাইরের কোনো শক্তির আক্রমণের শিকার হয়, তাহলে স্বাক্ষরকারী অন্যান্য দেশগুলো তাদের যাবতীয় সামরিক সক্ষমতাসহ আক্রান্ত অংশীদারের পাশে থাকবে।

খাজা আসিফ অবশ্য স্বীকার করেছেন যে হুথিদের দমন করতে ইসলামাবাদের সহযোগিতা রিয়াদ চেয়েছে কি না, সে সম্পর্কে তিনি অবগত নন। শিগগিরই পরিস্থিতি শান্ত হবে— এমন আশাও প্রকাশ করেছেন তিনি।

“আমি এখনও জানি না যে ইসলামাদের কাছে রিয়াদ সহযোগিতা চেয়েছে কি না। আর আমরা চাই যে শিগগিরই সংঘাতের নিরসন হোক; কিন্তু যদি তা না ঘটে এবং রিয়াদ ইসলামাবাদের সহযোগিতা চায়, সেক্ষেত্রে আমরা চুক্তি মেনে সহযোগিতা করতে বাধ্য থাকব।”

 উল্লেখ্য, সৌদি আরবের সঙ্গে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব ২০১৪ সাল থেকে। সে বছর ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, তারপর মাত্র এক বছরের মধ্যে  ২০১৫ সালে ইরানের মদতপুষ্ট সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হুথি রাজধানী সানা দখল করে। হুথিরা রাজধানী দখলের পর ইয়েমেনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মনসুর আবদ-আল হাদি সৌদিতে পালিয়ে যান। তার নেতৃত্বাধীন সরকারকে ফিরিয়ে এনে ক্ষমতায় বসাতে ওই বছর থেকেই ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে ইয়েমেন-সৌদি সেনাবাহিনী।

বর্তমানে ইয়েমেনের মোট ভূখণ্ডের অর্ধেক হুথি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে আছে, বাকি অর্ধেক নিয়ন্ত্রণ করছে সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার। কয়েক বছর আগে প্রেসিডেন্সিয়াল সরকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে।

২০২২ সালে হুথি বিদ্রোহী এবং সৌদি আরবের মাধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল; কিন্তু গত জুলাই মাসে সানার বিমানবন্দরে হামলার পর থেকে ফের তিক্ত হয়ে ওঠে সৌদি-হুথি সম্পর্ক।

সোমবার ইয়েমেনের হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকার একটি কারাগারে হামলা করেছিল সৌদি জোট, এতে ১১ জন কয়েদি নিহত হয়েছে। সেই হামলার শোধ নিতে গতকাল মঙ্গলবার সৌদির দক্ষিণাঞ্চলীয় ৪ জেলায় ভয়াবহ হামলা পরিচালনা করেছে হুথি গোষ্ঠী। এতে আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৭৩ জন।

সূত্র : জিও নিউজ, ব্লুমবার্গ