কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি মারা গেছেন

প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৪ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

আধুনিক কাতারের রূপকার ও সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। আজ রোববার সকালে কাতারের রাজকীয় দেওয়ান (আমিরি দেওয়ান) এক বিবৃতিতে দেশটির সাবেক এই শীর্ষ নেতার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। তিনি ১৯৯৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৮ বছর মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটির শাসনের দায়িত্বে ছিলেন।

কাতারের রাজকীয় আদালতের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় বলা হয়েছে, আল্লাহর হুকুম এবং তকদিরের ওপর অবিচল বিশ্বাস রেখে, আমিরি দেওয়ান অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জাতির এক অপূরণীয় ক্ষতিতে শোক প্রকাশ করছে। আমাদের প্রিয় সাবেক আমির এবং ফাদার আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি আজ সকালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মহান আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানিকে আধুনিক কাতারের প্রধান স্থপতি ও দূরদর্শী শাসক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাঁর শাসনকালেই কাতার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষস্থান লাভ করে এবং ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুততম অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির যুগ প্রত্যক্ষ করে, যা দেশটিকে মাথাপিছু আয়ের দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম ধনী রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। এ ছাড়া তাঁর বিশেষ নির্দেশ ও পৃষ্ঠপোষকতায় ১৯৯৬ সালে বিশ্বখ্যাত আন্তর্জাতিক স্যাটেলাইট সংবাদমাধ্যম ‘আল জাজিরা’ প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে এটি মধ্যপ্রাচ্যের গণমাধ্যম ও ভূ-রাজনীতিতে এক যুগান্তকারী বিপ্লব ঘটায়।

শেখ হামাদ ১৯৫২ সালে দোহায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৭১ সালে যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত রয়্যাল মিলিটারি একাডেমি স্যান্ডহার্স্ট থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরবর্তী সময়ে কাতার সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৯৯৫ সালে এক রক্তপাতহীন প্রাসাদ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করেন। তাঁর দীর্ঘ শাসনামলে কাতার কেবল অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বীই হয়নি, আন্তর্জাতিক কূটনীতি, খেলাধুলা এবং বিশ্বমঞ্চে এক প্রভাবশালী দেশ হিসেবে নিজের অবস্থান দৃঢ় করে।

২০১০ সালে তাঁর দূরদর্শিতাতেই কাতার ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজনের সুযোগ পেয়েছিল। ২০১৩ সালের জুন মাসে তিনি তাঁর চতুর্থ ছেলে এবং বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির কাছে স্বেচ্ছায় ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। এরপর থেকে কাতারে তিনি ‘ফাদার আমির’ হিসেবে বিবেচিত হন।