গাজা অভিমুখী সুমুদ ফ্লোটিলা আটকাতে শুরু করেছে ইসরায়েল
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২১ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন

গাজা উপত্যকার দিকে যাত্রা করা নৌবহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার নৌযানগুলোকে আটকাতে শুরু করেছে ইসরায়েলি নৌবাহিনী। স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার রাত থেকে এই অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। হামাস নিয়ন্ত্রিত এই উপত্যকার ওপর ইসরায়েল আরোপিত নৌ অবরোধ ভাঙার উদ্দেশ্যেই নৌবহরটি রওনা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মী ও নিরাপত্তা সূত্রগুলো।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের খবরে বলা হয়েছে, ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলায় মোট ৫৮টি জাহাজ রয়েছে। এই বহর ইসরায়েলি বাহিনীর মুখোমুখি হওয়ার সময় গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছাকাছি অবস্থান করছিল। এটি ইসরায়েল থেকে কয়েক শ নটিক্যাল মাইল দূরে।
এর আগেও বেশ কয়েকবার সুমুদ ফ্লোটিলা গাজায় আরোপিত ইসরায়েলি অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করেছে। তখন ইসরায়েল গাজা উপকূলের অনেক কাছাকাছি আসার পর নৌযানগুলোকে আটক করেছিল। তবে বহরটিকে আরও দূরে থাকতেই আটকানো হলো। ফ্লোটিলা আয়োজকদের প্রকাশ করা ভিডিওতে শোনা যায়, ইসরায়েলি নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তা কর্মীদের গতিপথ পরিবর্তনের আহ্বান জানাচ্ছেন।
তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে চান, তাহলে তা প্রতিষ্ঠিত ও স্বীকৃত চ্যানেলের মাধ্যমে করতে পারেন। অনুগ্রহ করে আপনার গতিপথ পরিবর্তন করুন এবং যাত্রা শুরুর বন্দরে ফিরে যান। যদি আপনারা মানবিক সহায়তা বহন করে থাকেন, তাহলে আশদোদ বন্দরের দিকে অগ্রসর হওয়ার আমন্ত্রণ রইল।’ এদিকে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে, আটক করা জাহাজগুলোর একটিতে ‘কনডম ও মাদকদ্রব্য’ পাওয়া গেছে।
ফ্লোটিলার কর্মীরা চলতি মাসের শুরুতে স্পেন থেকে যাত্রা শুরু করেন। এর আগে গত বছর সুইডিশ কর্মী গ্রেটা থুনবার্গসহ শতাধিক অংশগ্রহণকারী নিয়ে একই ধরনের একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যেখানে প্রতীকী পরিমাণ মানবিক সহায়তা বহন করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে হামাস প্রতিদ্বন্দ্বী ফিলিস্তিনি শক্তির কাছ থেকে গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে ইসরায়েল ও মিশর বিভিন্ন মাত্রায় এই উপত্যকার ওপর অবরোধ আরোপ করে আসছে। ইসরায়েলের দাবি, অস্ত্র চোরাচালান রোধে এই অবরোধ প্রয়োজনীয়। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর, যা গাজা যুদ্ধের সূচনা করে, এই অবস্থান আরও জোরালোভাবে পুনর্ব্যক্ত করেছে তারা। তবে সমালোচকদের মতে, এই অবরোধ গাজার প্রায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনির ওপর সম্মিলিত শাস্তির শামিল।
