কাবুলে পাকিস্তানি হামলায় পুনর্বাসন কেন্দ্র বিধ্বস্ত, শতাধিক নিহত

প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০২৬, ১৫:২৫ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর হামলায় একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্র পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দে ভরা এই সময়ে ঘটেছে এক হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডি, যেখানে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে। নিহতদের মধ্যে বড় অংশই ছিল নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন সাধারণ মানুষ।

হামলা সোমবার রাতে কাবুলের উপকণ্ঠে অবস্থিত সরকারি পুনর্বাসন কেন্দ্র ‘ওমিদ’ (আশা)-তে সংঘটিত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, রমজানের তারাবিহ নামাজ শেষ করে রোগীরা ডরমিটরিতে ফিরছিলেন ঠিক তখনই আকাশ থেকে বোমা বর্ষণ করা হয়।

পাকিস্তানি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা এই হামলা চালিয়েছে জঙ্গি আস্তানার লক্ষ্য করে। কিন্তু জাতিসংঘ এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, বোমার আঘাতে কেন্দ্রটি ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।

ঈদের সকালে কাবুলের প্রান্তে একটি পাহাড়ি কবরস্থানে দেখা যায় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। সোহরাব ফকিরি নামের এক ব্যক্তি তার ভাই কাইসের কবর খুঁজতে গিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। কাইস পেশায় দর্জি এবং ১০ বছর বয়সী এক সন্তানের জনক ছিলেন। সোহরাব বলেন, “দুই দিন ধরে সব হাসপাতালে খুঁজে অবশেষে ভিডিও দেখে ভাইকে চিনতে পেরেছি, কিন্তু এখানে কোনো কবরেই তার নাম নেই। ঈদের দিনে এভাবে কবরের জন্য হাহাকার করা অতি কষ্টকর।”

বেঁচে থাকা একজন ব্যক্তি ওয়ালি নাজির মোহাম্মদ হাসপাতাল থেকে জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের সময় তার চারপাশের রোগীদের শরীরে আগুন জ্বলছিল। তিনি বলেন, “গরম লোহার টুকরো আমার কোমর ও পা ক্ষতবিক্ষত করেছে। সরকার যদি প্রতিশোধ নিতে না পারে, আমাদের হাতে অস্ত্র তুলে দিক।”

আফগান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির জুমা খান নায়েল জানিয়েছেন, আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে কাউকেই দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। অনেক রোগী পরের দিনই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার কথা ছিল।

জাতিসংঘের ডেপুটি মিশন প্রধান জর্জেট গ্যাগনন জানিয়েছেন, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল ও ইতালীয় এনজিও ‘ইমার্জেন্সি’ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

এ পুনর্বাসন কেন্দ্র রোগীদের কারিগরি শিক্ষা দিত—কার্পেন্ট্রি, ইলেকট্রিক্যাল কাজ ও সেলাইয়ের মতো—যাতে সমাজের মূল স্রোতে ফেরার সুযোগ পেতেন। হামলার ফলে এ সমস্ত কার্যক্রম এক ধাক্কায় থমকে গেছে এবং স্থানীয় মানুষের জীবনে গভীর ক্ষতি হয়েছে।