অ্যামাজন প্রাইমের পর এবার চীনা ফ্যাশন ম্যাগাজিনে শেখ ফরিদ পলক

প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৬, ১৩:০৫ | অনলাইন সংস্করণ

  বিনোদন প্রতিবেদক

২০১৮ সালে ছোট পর্দায় অভিনয়ের মাধ্যমে শোবিজ অঙ্গনে যাত্রা শুরু করেন শেখ ফরিদ পলক। এরপর ধীরে ধীরে নিজের প্রতিভা, পরিশ্রম এবং স্বপ্নকে সঙ্গী করে চলচ্চিত্র, বিজ্ঞাপন, টেলিভিশন নাটক, ধারাবাহিক নাটক থেকে শুরু করে বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে গড়ে তুলছেন নিজের স্বপ্নের পরিচয়। অভিনয়ের পাশাপাশি ফ্যাশন মডেলিংয়েও সমান দক্ষতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন তরুণ এই প্রতিভাবান।

ফ্যাশন ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নিজের আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি ও পেশাদার কাজের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য ফ্যাশন ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করছেন পলক। অভিনয় ও মডেলিং দুই ক্ষেত্রেই ধারাবাহিক সাফল্যের ফলে তার পথচলা এখন দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিস্তৃত হয়েছে। এর আগে অ্যামাজন প্রাইম ওটিটি প্লাটফর্ম এর জন্য "Timeless Waltz" চলচ্চিত্রে কাজ করে ব্যাপক আলোচনায় আসেন তিনি। এবার চীনের ঐতিহ্যবাহী একটি ফ্যাশন ম্যাগাজিনের ফটোশুটে অংশ নিয়ে নতুন করে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন তরুণ এই ফ্যাশন মডেল ও অভিনেতা।

সম্প্রতি চীনের ফুজিয়ান প্রদেশের ঐতিহাসিক শহর সেনজোতে একটি ফ্যাশন ম্যাগাজিনের ফটোশুট সম্পূর্ণ করেছেন পলক। শত শত বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী এক প্রাচীন স্থাপনাকে ঘিরে আয়োজিত এই ফটোশুটে পলক'কে দেখা যায় চীনের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে এক ভিন্ন ও নান্দনিক রূপে। আধুনিকতা ও ঐতিহ্যের মনোমুগ্ধকর সমন্বয়ে এই ফটোশুট ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে।

জানা গেছে, এই ফ্যাশন শুটের জন্য চীনা ফ্যাশন কোরিওগ্রাফার মি. জোজো চেন এমন একজন মডেল খুঁজছিলেন, যার মধ্যে থাকবে বৈচিত্র্য, ব্যক্তিত্ব এবং ভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিচয়ের শক্তিশালী উপস্থিতি। সেই অনুসন্ধানেই তাদের টিমের নজরে আসে বাংলাদেশের শেখ ফরিদ পলক। তার কাজের অভিজ্ঞতা, পেশাদারিত্ব এবং ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হয়ে তাকে এই বিশেষ ফটোশুটে অংশগ্রহনের সুযোগ করে দেওয়া হয়।

চীনে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে পলক বলেন, দেশের বাইরের জন্য এর আগেও হলিউডের একটি চলচ্চিত্রে কাজ করার সুযোগ হয়েছে, যা আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা। তবে চীনের এই ফ্যাশন ম্যাগাজিনের কাজটি আমার কাছে সম্পূর্ণ ভিন্ন অনুভূতির কারণ, এবার আমি চীনে যেয়ে শুধু একজন অভিনেতা হিসেবে নয় বরং একজন বাংলাদেশি ফ্যাশন মডেল হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেছি। যখন আমার নামের পাশে লেখা থাকবে "বাংলাদেশ" সেটাই সবচেয়ে বড় অর্জন কারন, এটি শুধু আমার ব্যক্তিগত অর্জন নয় বরং পুরো দেশের প্রতিনিধিত্ব করার একটি চমৎকার মাধ্যম।

তিনি আরও বলেন, আমি সবসময় বিশ্বাস করি, আমরা যারা সাংস্কৃতি চর্চা করি আমরা যেখানেই যাই না কেনো, আমাদের সঙ্গে বাংলাদেশের পরিচয়টিও বহন করি। তাই আমি সবসময়ই দেশের সংস্কৃতি, সৌন্দর্য এবং সম্ভাবনাকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করি। চীনের এত উচ্চ সাংস্কৃতিক সভ্যতায় বাংলাদেশের মডেল হিসেবে কাজ করতে পেরে সত্যিই খুব ভালোলাগা কাজ করছে।

অভিনয়ের পাশাপাশি নিয়মিত ফ্যাশন জগতেও সক্রিয় রয়েছেন শেখ ফরিদ পলক। দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য ব্র্যান্ডের প্রচারণা, ফ্যাশন ক্যাম্পেইন এবং বিলবোর্ড বিজ্ঞাপনে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। এছাড়াও দেশের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা শবনম বুবলি, অভিনেত্রী কেয়া পায়েল, ফ্যাশন কোরিওগ্রাফি গৌতম শাহা, ব্রান্ড প্রোমোটার বারিশা হক সহ বিনোদন অঙ্গনের প্রায় সকল পরিচিত মুখের সঙ্গে নিয়মিত বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও আয়োজনে অংশ নিতে দেখা যায় তাকে।

নিজের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে পলক বলেন, আমি এখনও নিজেকে শেখার পর্যায়েই মনে করি। প্রতিটি কাজ আমাকে নতুন কিছু শেখায়। বর্তমানে চীনের একটি স্ট্রিমিং মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের প্রজেক্ট নিয়ে আলোচনা চলছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।

দেশীয় বিনোদন অঙ্গন থেকে আন্তর্জাতিক ফ্যাশন মঞ্চে শেখ ফরিদ পলকের এই অগ্রযাত্রা যেন এক স্বপ্নবাজ তরুণের সাফল্যের গল্প। যে গল্পে রয়েছে সংগ্রাম, আত্মবিশ্বাস, পরিশ্রম এবং বাংলাদেশের নাম বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার অদম্য প্রত্যয়।


আমার বার্তা /জেএইচ