উচ্চশিক্ষার টেকসই রূপান্তরে গবেষণা, উদ্ভাবন ও দক্ষতা উন্নয়নে জোর
ইউজিসি’র জাতীয় কর্মশালা সমাপ্ত
প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৬, ১৬:১০ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার টেকসই রূপান্তর, গবেষণা ও উদ্ভাবনভিত্তিক জ্ঞানসমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ক্যারিয়ার সাপোর্ট সেন্টার, উদ্ভাবনী কেন্দ্র ও স্টার্টআপ ইনকিউবেটর স্থাপন, শিক্ষা ও গবেষণা অবকাঠামো গড়ে তুলতে বাজেট বৃদ্ধি, সফট স্কিল ও নৈতিক শিক্ষা বাধ্যতামূলককরণসহ একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরেছেন দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক, শিল্প প্রতিনিধি, নীতি প্রণেতা, শিক্ষা প্রশাসক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ।
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত “বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষের রোডম্যাপ” শীর্ষক জাতীয় কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়। সোমবার (১২ মে ২০২৬) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে দিনব্যাপী এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য প্রফেসর মো. আখতার হোসেন খান, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর আবদুল হান্নান চৌধুরী এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য প্রফেসর এ বি এম বদরুজ্জামান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মো. সাইদুর রহমান।
কর্মশালায় উচ্চশিক্ষার পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র নিয়ে পাঁচটি টেকনিক্যাল সেশন অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা শেষে সুপারিশসমূহ উপস্থাপন করেন বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. মো. সামসুজ্জোহা বায়েজীদ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. এনামউল্যা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রফেসর শাহ শামীম আহমেদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম সোহরাব উদ্দিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে গবেষণা খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ কেবল জ্ঞান গ্রহণকারী রাষ্ট্র হিসেবে নয়, বরং গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে জ্ঞান সৃজনকারী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে পরিচিত হতে চায়। এ লক্ষ্য অর্জনে কর্মশালার সুপারিশসমূহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভাপতির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ বলেন, কর্মশালার সুপারিশসমূহ দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের সার্বিক উন্নয়ন, উদ্ভাবন, গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণে একটি কার্যকর রোডম্যাপ হিসেবে কাজ করবে।
কর্মশালায় দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিতকরণ, কী পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটর (KPI) ভিত্তিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু, বার্ষিক পারফরম্যান্স রিভিউ, পিএইচডি ও পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং শিল্পখাতের অর্থায়নে গবেষণা তহবিল গঠণের সুপারিশ করা হয়।
এছাড়া শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ সুবিধা বৃদ্ধি, উচ্চশিক্ষার পাঠ্যক্রম প্রণয়নে শিল্প প্রতিনিধিদের সম্পৃক্তকরণ, সেক্টরভিত্তিক জনবল চাহিদা নিরূপণ, আউটকাম-বেইজড এডুকেশন (OBE) বাধ্যতামূলক করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপ কার্যক্রম নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়।
গবেষণা ও উদ্ভাবন জোরদারে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা ও উদ্ভাবন কেন্দ্র স্থাপন, প্রযুক্তি স্থানান্তর অফিস গঠন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, যৌথ ডিগ্রি প্রোগ্রাম চালু এবং শিল্প ও অ্যালামনাই-ভিত্তিক গবেষণা তহবিল গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অংশগ্রহণকারীরা সামাজিক প্রভাবসম্পন্ন গবেষণা পরিচালনা, পেটেন্ট নীতি হালনাগাদ, আধুনিক ল্যাব ও গবেষণা সরঞ্জাম সরবরাহ এবং বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানমুখী গবেষণার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
উচ্চশিক্ষা খাতের কার্যকর সুশাসন নিশ্চিত করতে ইউজিসি’র প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল মনিটরিং ও ইআরপি সিস্টেম চালু, ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলকে (IQAC) কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানে উন্নীতকরণ, পারফরম্যান্সভিত্তিক তহবিল বরাদ্দ এবং বিশ্ববিদ্যালয় র্যাংকিং ব্যবস্থা চালুর সুপারিশও করা হয়। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় গবেষণা ডাটাবেস তৈরি এবং স্বচ্ছ হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থা অনুসরণের ওপর জোর দেওয়া হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, প্রফেসর ড. মাছুমা হাবিব ও প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলামসহ বিভিন্ন পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষাবিদ, গবেষক, শিল্পখাতের প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন-সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১২ তারিখ (মঙ্গলবার) সকালে এ কর্মশালার উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
আমার বার্তা/এমই
