সবজির বাজারে স্বস্তি, ব্রয়লারের কেজি ১৫০ টাকা

ক্রেতা-বিক্রেতা কম

প্রকাশ : ৩১ মে ২০২৬, ১৩:০৬ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির মধ্যে রাজধানী অনেকটা ফাঁকা হয়ে গেছে। পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে সবজি বিক্রেতা থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের ব্যবসায়ীরাও ঢাকা ছেড়েছেন। এতে সবজি ও নিত্যপণ্যের দোকানগুলোর অর্ধেকের বেশি বন্ধ রয়েছে। অবশ্য বাজারে বিক্রেতার পাশাপাশি ক্রেতার সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে কম রয়েছে। তবে, এই ক্রেতা-বিক্রেতার স্বল্পতার মধ্যেও প্রায় সব ধরনের সবজি ও মাংসের বাজারে স্বস্তি ফিরেছে।

রোববার (৩১ মে) সকালে রাজধানীর মুগদা ও মানিকনগর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের চতুর্থ দিনেও অর্ধেকের বেশি সবজির দোকান বন্ধ। তবে এই অঞ্চলে বেশিরভাগ সবজি এখন ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। ঈদের আগে যা ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

মানিকগর স্টাফ কোয়ার্টারের উত্তর পাশের সবজি বাজারে অন্তত ২০টি সবজির দোকান রয়েছে। ওই দোকানগুলোর মধ্যে মাত্র ৭-৮টি খোলা থাকলেও বাকিগুলো বন্ধ রয়েছে। একই চিত্র দেখা গেছে মুগদার সবজির বাজারেও। এই বাজারেও অর্ধেকের বেশি সবজির দোকান বন্ধ রয়েছে।

এসব বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এখন সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে ঢেঁড়শ, যা প্রতিকেজি পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৪০ টাকায়। এছাড়া পেঁপে, সাদা বেগুন, চিচিঙ্গা, পটল, ঝিঙে, ধুন্দল, ও উস্তা প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা দরে।

সাধারণত ঈদের তিন চার দিন কাঁচা মরিচ, লেবু, শসা, গাজর, টমেটোর চাহিদা বেশি থাকে। ফলে এসব পণ্যের দাম এসময় বেশি থাকে। তবে এবছর এই পণ্যগুলোর দামও স্থিতিশীল রয়েছে। বরং কিছু কিছু পণ্যের দাম ঈদের ছুটির মধ্যে কমেছে।

বাজারে প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে। আর শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকায়, গাজর ১৪০-১৬০ টাকা পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে। ঈদের আগে এই প্রত্যেকটি পণ্যের দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেশি ছিলো। আর ঈদের পরেও আগের মতোই লেবু প্রতি হালি ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

এছাড়া বাজারে প্রতিকেজি করলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে। আর কাঁকরোল, কালো গোল বেগুন ও বরবটি ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস লাউ পাওয়া যাচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। আর কাঁচা আম পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩০ টাকা কেজি দরে।

সকালে মুগদা বাজারে সবজি কিনতে এসেছিলেন বেসরকারি চাকরিজীবি এহসানুল করিম। তিনি আজ সকালেই গ্রামের বাড়ি বরিশাল থেকে ফিরেছেন। তিনি ঢাকা পোস্টকে জানান, ঢাকায় ফিরে সবজির দাম অনেক কম দেখতে পেয়ে অবাক হয়েছি। গ্রামের বাড়িতে যেই লাউ ১০০ টাকায় কিনেছেন, তা এখানে ৭০ টাকায় কিনতে পেরেছেন। এছাড়া তিনি ৩০ টাকায় আধা কেজি কাঁচা মরিচ, ২০ টাকায় আধা কেজি ভেন্ডি ও ১৫ টাকায় এক হালি লেবু কিনতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

মানিকনগর বাজারে সবজি বিক্রেতা আকবর মিয়া বলেন, ঈদের পরে আবহাওয়া ভালো, বৃষ্টিও নেই। তাছাড়া সবজির নতুন সরবরাহও এসেছে। এ কারণে বাজারে অনেক সবজির দাম কম রয়েছে। তাছাড়া ক্রেতার সংখ্যা কম থাকায় অল্প লাভেই তারা সবজি ছেড়ে দিচ্ছেন। 

এদিকে, ঈদের পরে মুরগির বাজারে ব্যাপক স্বস্তির দেখা মিলেছে। বাজারে প্রতিকেজি ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা দরে। ঈদের দুদিন আগেও ব্রয়লার ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এছাড়া, সোনালী মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা কমে ৩৬০ টাকায় এবং কক মুরগি ৩৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। 

মুগদা বাজারের মুরগির বিক্রেতা লিয়াকত বলেন, প্রতি বছরই ঈদুল আজহার পরপর কয়েক দিন মুরগি চাহিদা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কমে যায়। এবারও চাহিদা কম রয়েছে। এই সময় খামার থেকে কিছুটা কম দামে মুরগি কিনতে পারেন তারা। এজন্য খুচরা বাজারেও দাম কমেছে।

ডিমের বাজারেও ঈদের পর কিছুটা দাম কমেছে। বর্তমানে ফার্মের মুরগির প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকায়। যা ঈদের আগে ১৫০ টাকা ডজন বিক্রি হয়েছে।