বিমান বহরে যুক্ত হবে ৪৭টি উড়োজাহাজ
প্রকাশ : ০২ মে ২০২৬, ১৭:১১ | অনলাইন সংস্করণ
উমর ফারুক আল হাদী:

- জ্বালানি, খনিজ, বিদ্যুৎ প্রযুক্তি অবকাঠামোগত খাতে মার্কিন কোম্পানীগুলো বড় বিনিয়োগে আগ্রহী
- যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ নয়া দিগন্তের সূচনা
- যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে ৩৭ হাজার কোটি টাকার ঋণ দিচ্ছে
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর, বহুমুখী ও ক্রমবর্ধমান। অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্যিক সম্পর্কের অনেক অগ্রগতি হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানী নতুন প্রজন্মের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ১৪টি উড়োজাহাজ ঋণের মাধ্যমে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে দিচ্ছে। বিমান বহরে এ ১৪টি উড়োজাহাজ যুক্ত হলে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। বিমান ও বোয়িং-এর চুক্তি মোতাবেক বিমানকে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে। যা মার্কিন ডলারে ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার।
বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বহরে ২১টি উড়োজাহাজ আছে। আরো ১৪টি যুক্ত হলে উড়োজাহাজের সংখ্যা হবে ৩৫টি। তবে বোয়িং কোম্পানীর সাথে চুক্তি অনুসারে ২০৩৪-৩৫ সালে এ সংখ্যা এসে দাঁড়াবে ৪৭টিতে। নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজ যুক্ত হলে, বিমান বোয়িং-৭৮৭-১০ ডিমলাইনার এবং বোয়িং-৭৮৭-৯ ডিমলাইনার উড়োজাহাজ দিয়ে দূরপাল্লার রুটে অর্থাৎ ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনা বৃদ্ধি করবে।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব এবং কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক অনেক গভীর। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ অবাধ, উন্মুক্ত ও শান্তিপূর্ণ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল নিশ্চিতে একযোগে কাজ করছে। বাড়ছে সরাসরি বিনিয়োগ।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ জানায়, বোয়িং কোম্পানীর নতুন প্রজন্মের আধুনিক প্রযুক্তির ১৪টি উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হলে, বিমানের সংখ্যা দাঁড়াবে ৩৫টিতে। বর্তমানে ২১টি উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত রয়েছে। বোয়িং-এর সাথে চুক্তি অনুযায়ী ২০৩৪-৩৫ সালের মধ্যে বিমান বহরে আরো ১২টি উড়োজাহাজ যুক্ত হবে। ফলে বিমান বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াবে ৪৭টিতে।
বোয়িং কোম্পানীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন সিরিজের ১৪টি উড়োজাহাজ আগের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি জ¦ালানী সাশ্রয়ী। এছাড়া কার্বন নিঃসরণ কমানোর ফলে পরিবেশগত সুবিধা রয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কাইজার সোহেল আহমেদ জানান, বোয়িং কোম্পানীর কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি বাস্তবায়ন হলে বদলে যাবে বিমানের দৃশ্যপট। শুরু হবে এক যুগান্তকারী ঐতিহাসিক নবদিগন্তের সূচনা। তিনি আরো জানান, ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে সংস্থাটি। বাণিজ্যিক পরিকল্পনা নিয়ে নতুন উদ্যোগে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বিমানকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে উন্নীতকরণের।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক চুক্তি : বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘটিত বাণিজ্যিক চুক্তিতে বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে সংঘটিত এ বাণিজ্যিক চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ তার শুল্ক ও অশুল্ক পণ্যের বাণিজ্যিক বাঁধা দূর করতে পারবে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে। ফলে বাণিজ্যিক ভারসাম্যও রক্ষা হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়ন হলে শুধু দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য নয়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
যুক্তরাষ্ট্র বলছে, বাংলাদেশেজ্বালানি চাহিদা পূরণ করতে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে টিকিয়ে রাখতে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ১৮ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের প্রয়োজন হবে বাংলাদেশের জ¦ালানী খাতে। এ চাহিদা পূরণে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানীগুলো ১৮ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে আগ্রহী বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের শেভরন, এক্সিলারেট এনার্জি ও জিই ভার্লোভারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগে আগ্রহী। এছাড়া বাণিজ্য চুক্তি অনুযায়ী ৩৫০ কোটি মার্কিন ডলারের কৃষিপণ্য যেমন গম, সয়াবিন, তুলা ও ভুট্টা কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ।
এদিকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য চুক্তি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে তৈরী পোশাক শিল্পের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে সর্বাধিক রপ্তানীর প্রতিশ্রুতি রয়েছে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্কও আরো জোরদার করা হচ্ছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এটি বাণিজ্য ঘাটতির ভারসাম্য রক্ষা করবে এবং উভয় দেশকে আরো সমৃদ্ধ করবে।
আমার বার্তা/এমই
