শর্ত মানলেই মিলবে ঋণ, না হয় সরে দাঁড়াবে আইএমএফ
প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪১ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন

কাঠামোগত সংস্কার কর্মসূচি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না হলে স্থগিত থাকা ঋণের কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। তবে চলমান কর্মসূচির বাইরে নতুন ঋণ নিয়ে আলোচনার পথ খোলা রাখা হয়েছে।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রাজস্ব, ব্যাংকিং ও সামগ্রিক আর্থিক খাতের সংস্কার কার্যক্রমে সন্তুষ্ট নয় সংস্থাটি। বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন জোরদার না করা এবং খেলাপি ঋণ আদায়ে শিথিলতার বিষয়টি আইএমএফ গুরুত্বসহকারে দেখছে। একই সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংস্কার প্রক্রিয়ায় গতি না থাকায় কর-জিডিপি অনুপাতও বাড়ছে না, বরং কমছে বলে তাদের পর্যবেক্ষণ।
এর আগে থেকেই জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমানোর পরামর্শ দিয়ে আসছিল আইএমএফ। কিন্তু বাস্তবে প্রতিবছরই ভর্তুকির পরিমাণ বাড়ছে। এ অবস্থায় কঠোর শর্ত বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে সংস্থাটি। তবে শর্ত পূরণে ব্যত্যয় ঘটলে যেকোনো সময় এ সহায়তা থেকে সরে দাঁড়ানোর হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
এদিকে আইএমএফের সঙ্গে চলমান ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির একটি কিস্তি স্থগিত হওয়ার এক দিনের মধ্যেই দেশে জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি গ্যাসের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আইএমএফের চাপে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি; বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণেই জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ইতোমধ্যে পরিবহন খাতে পড়তে শুরু করেছে। বাস ও ট্রাকভাড়া বাড়ার পাশাপাশি পণ্যমূল্যও ঊর্ধ্বমুখী। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন সভার সাইডলাইনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে সংস্থাটি তাদের এই অবস্থান তুলে ধরে। বৈঠকে রাজস্ব খাত, মুদ্রানীতি, বিনিময় হার এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়।
আইএমএফের মতে, দেশের কর-জিডিপি অনুপাত এখনো ৭ থেকে ৮ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ, যা উন্নয়ন চাহিদার তুলনায় কম। এ অবস্থায় কর নেট সম্প্রসারণ, ভ্যাট ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং আয়কর আদায় বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে তারা। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখা, নীতি সুদহার বৃদ্ধি এবং ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া বাজারভিত্তিক বিনিময় হার পুরোপুরি কার্যকর না হলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমবে না বলেও মনে করছে সংস্থাটি। আগামী বাজেট থেকেই এটি বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমিয়ে ধাপে ধাপে বাজারভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতি কমানোর সুপারিশও করা হয়েছে। পাশাপাশি খেলাপি ঋণের উচ্চহার ও পুনঃতফসিল প্রক্রিয়ায় শিথিলতার তীব্র সমালোচনা করেছে আইএমএফ।
এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, বাজেট সহায়তা বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কিছুটা কমাবে এবং বাজেট ঘাটতি ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হবে। তবে এর পূর্ণ সুফল পেতে হলে দ্রুত কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়ন জরুরি। শর্ত পরিপালনে ব্যর্থ হলে সহায়তা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঝুঁকিও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
