৩৮৭ টাকা বেড়ে ১২ কেজি এলপিজি গ্যাসের দাম ১৭২৮ টাকা
প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:১০ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

এপ্রিল মাসের জন্য ১২ কেজি এলপি গ্যাসের দাম ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১৭২৮ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জিরেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। একইসঙ্গে অটোগ্যাস ৬১.৮৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৯.৭৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিইআরসির কনফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলনে নতুন দর ঘোষণা করেন চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ।
যদিও গত ৫ মাস ধরে বিইআরসি ঘোষিত দরের কোনো কার্যকারিতা নেই। বলা যায়, নজিরবিহীন অরাজকতা চলছে এলপিজি খাতে। বিক্রেতারা ইচ্ছে মাফিক দাম আদায় করছে। মার্চের দর ১৩৪১ টাকা থাকলেও ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকায় বেচাকেনার খবর পাওয়া গেছে।
দর ১৩৪১ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। অটোগ্যাসের দাম লিটার প্রতি ৬১.৮৩ টাকা নির্ধারণ করেছে।
এলপি গ্যাস সংকটকে পুঁজি করে একের পর এক সুবিধা দেওয়া হয় আমদানিকারকদের। আমদানিসীমা বাড়িয়ে দেওয়া, ট্যাক্স কমানো এবং এলসিতে ঋণ সুবিধার ধারাবাহিকতায় ফ্রেইটচার্জও (জাহাজ ভাড়া) টন প্রতি ১০৮ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২১ ডলার করা হয়েছে। শুধু এসব সুবিধা নয়, আমদানিকারকদের দাবির প্রেক্ষিতে ঋণে এলসি খোলার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে গত ১২ জানুয়ারি জারিকরা আদেশে ২৭০ দিন পর্যন্ত বাকিতে এলপিজি আমদানির সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি সংকটের কথা বলে ৫টি কোম্পানি তাদের আমদানির ঊর্ধ্বসীমা বাড়িয়ে নিয়ে গেছেন। যুমনা স্পেসটেক এলপি গ্যাসের ১ লাখ ৮০ হাজার টন আমদানির ঊর্ধ্বসীমা বাড়িয়ে ৬ লাখ ৫০ হাজার টন করা হয়েছে। একইভাবে ডেল্টা এলপিজির ২০ হাজার টন বাড়িয়ে ৮০ হাজার টন, ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের বার্ষিক আমদানির ক্ষমতা ৩ লাখ টন থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ টন, মেঘনা এলপিজির ২ লাখ ৫০ হাজার টন থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ ৬০ হাজার টন, ইউনাইটেড গ্রুপের আইগ্যাসকে ১ লাখ টন থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ টন আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এত কিছুর পরও বাগে আনা যাচ্ছে না এলপি গ্যাসের দাম। প্রকাশ্যে বেশি দামে বিক্রি করা হলেও ভোক্তা অধিদফতর হাতগুটিয়ে বসে রয়েছে। চলছে দায় চাপানোর খেলা।
২০২১ সালের ১২ এপ্রিলে প্রথমবারের মতো এলপি গ্যাসের দর ঘোষণা করা হয়। তখন বলা হয়েছিল এখন থেকে সৌদির দর ওঠা-নামা করলে ভিত্তিমূল্য ওঠা-নামা করবে। অন্যান্য কমিশন, জাহাজ ভাড়া, আমদানিকারকের কমিশন, ডিলার এবং খুচরা বিক্রেতার কমিশন কমবেশি করতে হলে নতুন করে গণশুনানি করা হবে। ওই ঘোষণার পর থেকে প্রতি মাসে এলপিজির দর ঘোষণা করে আসছে বিইআরসি।
আমার বার্তা/এমই
