অনলাইনে আয়ের ফাঁদ, সিআইডির অভিযানে চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার
প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:২২ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

টেলিগ্রাম অ্যাপে ‘সাব্রিনা ইসলাম’ নামে এক তরুণীর ভুয়া পরিচয়। এরপর ‘এটমিক মার্কেট’ নামের একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কাজ দিয়ে ঘরে বসে সহজে আয়ের প্রলোভন। এভাবেই এক ব্যক্তির বিশ্বাস অর্জন করে ধাপে ধাপে প্রায় ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রতারক চক্র। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- মো. সাজ্জাদ হোসেন (৩৩) ও মো. রাজিব খাঁন (৩৩)। বুধবার (গতকাল) রাজধানীর হাজারীবাগ ও নিউমার্কেট এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সিআইডি জানায়, গত বছরের ৭ জুন মতিঝিল থানা এলাকায় অবস্থানকালে এক ভুক্তভোগী টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে সাব্রিনা ইসলাম নামের একটি আইডির সঙ্গে পরিচিত হন। ওই আইডি থেকে তাকে অনলাইনে সহজে আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ‘এটমিক মার্কেট’ নামক প্ল্যাটফর্মে কাজ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী সরল বিশ্বাসে ওই প্রস্তাবে সম্মত হয়ে একটি অ্যাকাউন্ট খোলেন।
প্রতারণার কৌশল সম্পর্কে সিআইডি জানায়, প্রথমে প্রতারক চক্রটি স্বল্প অঙ্কের টাকা বিনিয়োগের বিপরীতে কমিশন ও বোনাস প্রদান করে ভুক্তভোগীর আস্থা অর্জন করে। এতে ভুক্তভোগীর কাছে পুরো বিষয়টি বৈধ ও লাভজনক মনে হয়। পরবর্তীতে অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে ধাপে ধাপে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বড় অঙ্কের টাকা জমা দিতে বলা হয়। ভুক্তভোগীও তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে টাকা জমা দিতে থাকেন।
একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ লাভ দেখানো হলেও সেই অর্থ উত্তোলনের সময় বাধে বিপত্তি। ‘সিকিউরিটি ফি’, ‘সার্ভিস চার্জ’, ‘এনএফটি’ স্কোর বৃদ্ধি– এমন সব অজুহাতে আবারও টাকা দাবি করে চক্রটি। ভুক্তভোগী সরল বিশ্বাসে সেই টাকাও দিয়ে দেন। এভাবে ধাপে ধাপে তার কাছ থেকে সর্বমোট ৩৯ লাখ ৫৬ হাজার ৪৬৯ টাকা আত্মসাৎ করে প্রতারক চক্রটি। এরপর ভুক্তভোগী টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করলে তারা বিভিন্ন তালবাহানা শুরু করে এবং একপর্যায়ে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে ওই ব্যক্তি গত ১৬ সেপ্টেম্বর মতিঝিল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার সূত্র ধরে তদন্তে নামে সিআইডি। গ্রেপ্তারের সময় আসামিদের কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানান, তারা ভুয়া টেলিগ্রাম আইডি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন চাকরি ও সহজে আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করে আসছিলেন। তদন্তে জানা গেছে, মো. সাজ্জাদ হোসেন আগেও এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। অন্য সদস্য রাজিব খাঁন বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব খোলা ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সরবরাহের মাধ্যমে এই প্রতারণা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করতেন।
আমার বার্তা/এমই
