কাপ্তাই হ্রদের পানিতে ডুবেছে ঝুলন্ত সেতু, বাঘাইছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৩ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত বাড়ছে। এতে জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার কাচালং নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। একই সঙ্গে রাঙামাটি শহরের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতুর পাটাতনের সিংহভাগ পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে দুর্ঘটনা এড়াতে সেতুটিতে পর্যটক প্রবেশ ও চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে হ্রদের পানির উচ্চতা নিয়ন্ত্রণে শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত সোয়া ৮টার দিকে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি গেট ৬ ইঞ্চি করে খুলে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশন করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় তীরবর্তী বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। বাঘাইছড়ির পাশাপাশি রাঙামাটি সদরসহ জেলার আরও কয়েকটি উপজেলার নিচু এলাকায়ও পানি বাড়ছে। এতে কোথাও কোথাও রাস্তাঘাট ও বসতবাড়িতে পানি ওঠায় দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বাঘাইছড়ি পৌরসভার বটতলী, এফ ব্লক, পুরাতন মারিশ্যা, মাস্টারপাড়া, মাদ্রাসাপাড়া, লাইল্যাঘোনা, উলুছড়ি, বাঘাইহাট, পশ্চিম মুসলিম ব্লক ও মধ্যমপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি ঢুকেছে। কয়েকটি সড়ক ও বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। কিছু পরিবার স্থানীয় বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে বলেও জানা গেছে।
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান বলেন, কিছু নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাঘাইছড়ি প্রেস ক্লাবের সভাপতি আব্দুল মাবুদ বলেন, পানি দ্রুত বাড়ছে। ইতোমধ্যে কিছু পরিবার স্থানীয় বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে।
এদিকে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছায় উজান ও ভাটি এলাকার বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট খোলার সিদ্ধান্ত নেয় কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। এর আগে শনিবার দুপুর ২টায় হ্রদের পানির উচ্চতা ১০৫ দশমিক ৬৪ ফুট এমএসএল (মিন সি লেভেল) রেকর্ড করা হয়। হ্রদের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল।
কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান বলেন, হ্রদের পানির উচ্চতা দ্রুত বাড়তে থাকায় নির্ধারিত সময়ের আগেই জলকপাটগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। পানির উচ্চতা, বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে আসা পানির প্রবাহ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী পানি ছাড়ার পরিমাণ বাড়ানো বা পরিবর্তন করা হতে পারে।
বর্তমানে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট চালু রয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে আরও প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে। এর সঙ্গে স্পিলওয়ের ১৬টি গেট দিয়ে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হচ্ছে।
এদিকে কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়ায় রাঙামাটি শহরের ঝুলন্ত সেতুর পাটাতনের বেশির ভাগ অংশ পানিতে ডুবে গেছে। পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সেতুটিতে প্রবেশ ও চলাচল বন্ধ রেখেছে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন।
রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুলন্ত সেতুতে পর্যটকদের প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে। হ্রদের পানি কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।
কাপ্তাই হ্রদের পানি আরও বাড়লে তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ কারণে ঝুঁকিপূর্ণ ও নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষকে সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজন হলে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।
