জনবল সংকট দূর করতে স্বাস্থ্যখাতে অধিক বরাদ্দ রেখেছে সরকার
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী
প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৮:১৪ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, জনবল সংকট দূর করতে স্বাস্থ্যখাতে অধিক বরাদ্দ রেখেছে সরকার। অনেক জেলায় ২৫০ শয্যার হাসপাতালের অবকাঠামো তৈরি করা হলেও সেটি জনবলের অভাবে চালু করা যাচ্ছে না। তাই সরকারি উদ্যোগী হয়ে দ্রুত জনবল নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে হাসপাতালে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে আলোচনা সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, গত ১৭ বছর ফ্যাসিবাদী সরকারের আওতায় দেশের প্রতিটি স্তরে অব্যবস্থাপনা, অন্যায়, জুলুম, দুর্নীতি, অবহেলা ছিল। স্বাস্থ্যখাতও এর বাহিরে নয়। রংপুরের সন্তান হিসেবে আমাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত করা হয়েছে। এ হাসপাতালের উন্নয়নে আমি সাধ্যমত কাজ করে যাব।
তিনি আরও বলেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন করে ১০টি আইসিইউ শয্যা যুক্ত করে ২০টি শয্যায় ইউনিটকে উন্নীত করা হবে। হাসপাতালে রোগীর সাথে একজন এটেনডেন্টের থাকার সুবিধা নেই, সেটি দ্রুত নিশ্চিত করা হবে। এনেসথেশিয়ার অভাবে অপারেশনে সমস্যা হচ্ছে। এ কারণে রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে, আবার কোনো ক্ষেত্রে রোগী মারাও যাচ্ছে। অপারেশন চালু করতে প্রয়োজনীয় ঔষধ সরবরাহ করা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উত্তরের দুই কোটি মানুষের চিকিৎসাস্থল হলেও এ হাসপাতালে নিরাপত্তার জন্য নেই কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা। তাই আগামী এক মাসের মধ্যে হাসপাতালে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। চুরি, ছিনতাই রোধে এক সপ্তাহের ভেতরে গোটা মেডিকেল ক্যাম্পাসে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন লাইট জ্বালিয়ে আলোকিত করা হবে। হাসপাতাল প্রাঙ্গণে জলাবদ্ধতা দূরসহ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সিটি করপোরেশন।
জনবল সংকট মোকাবেলা নিয়ে আসাদুল হাবিব বলেন, বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আউটসোর্সিং হিসেবে ১২৪ জন জনবল রয়েছে। এদের মাধ্যমে হাসপাতালে সঠিক সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পক্ষ থেকে ১০ জন, রংপুর-৩ আসনের এমপির পক্ষ থেকে ৫ জনসহ জেলার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আর্থিক সহযোগিতায় ৫০ জন আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগ করা হবে। এতে করে হাসপাতালে দালাল চক্র, ট্রলির মাধ্যমে পয়সা নেওয়া বন্ধ হবে। প্রতিটি কর্মচারীকে বাধ্যতামূলকভাবে নির্ধারিত পোশাক পরানো ও পরিচয়পত্র নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে রংপুর মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প চালু করা হয়েছে। নার্সরা যেন রোগীদের সাথে ভাল আচারণ করেন সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ডাক্তাররা যেন সময় মত ডিউটি করেন সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা সবাই মিলে সহযোগিতা করতে পারলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চিকিৎসাক্ষেত্রে মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারবে।
লাশ পরিবহনে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট নিয়ে মন্ত্রী বলেন, মরদেহ পরিবহনের ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট কাজ করে। আগামীতে অ্যাম্বুলেন্সগুলোকে হাসপাতালের তালিকাভুক্ত হতে হবে। তারা মাইলেজ অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণ করবে এবং চালানের মাধ্যমে টাকা দেওয়া হবে। এনিয়ে সিটি করপোরেশন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও অ্যাম্বুলেন্স মালিক আলোচনা করবে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৫ তলা ভবনে ৪৬০ শয্যার একটি ক্যান্সার, কিডনি, হৃদরোগ বিভাগের ভবন নির্মাণ চলছে। এটির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে। ভবনটি চালু হলে হাসপাতালে রোগীর চাপ কমবে। এছাড়া হাসপাতালে যেসব যন্ত্রপাতি অকেজো রয়েছে এবং মেরামত যোগ্য নয়, সেটি মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলে নিলামে বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান, রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আনোয়ার হোসেন, রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলামসহ অন্যরা।
এর আগে, সকাল সাড়ে ১১টায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু। তিনি ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের সাথে প্রায় ৪ ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। এরপর তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৪নম্বর ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন। বিকেলে তিনি রংপুর নগরীর জিলা খাল ও কেডি খাল পরিদর্শন করেন।
আমার বার্তা/এমই
