৫১ অনুচ্ছেদের দোহাই দিয়ে চুপ্পুর গ্রেপ্তার ঠেকানো যাবে না: আখতার হোসেন
প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৬ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেছেন, ‘সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদের দোহাই দিয়ে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে গ্রেপ্তার ঠেকানো যাবে না। রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তির বিধান চিরস্থায়ী নয়। যতক্ষণ কেউ রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকেন, ততক্ষণ তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা যায় না। কিন্তু দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তারে কোনো আইনি বাধা নেই।’
রোববার (২৬ জুলাই) রাত ৮টায় চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় মুক্তমঞ্চে ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলা এনসিপির আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আখতার হোসেন বলেন, বাংলাদেশের মানুষ হাসিনাকে সরিয়ে দিয়ে অন্য কেউ এসে আবার হাসিনাগিরি করবে এ জন্য চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে জীবন দেয়নি। মানুষ একটি মৌলিক পরিবর্তন চেয়েছিল। সেই পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন তারা ভোটের মাধ্যমে প্রকাশ করেছে। গণভোটে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপিও গণভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। হয়তো তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নয়, বরং জনগণের মনোভাব বিবেচনায় সেই অবস্থান নেয়। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পরই তারা গণভোটের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে তারা জানাল, বর্তমান সংবিধানে নাকি নতুন সংবিধান প্রণয়নের সুযোগ নেই।
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল। জনগণ চেয়েছিল নতুন ভিত্তি, নতুন কাঠামো ও নতুন দর্শনের আলোকে একটি নতুন সংবিধান। কিন্তু তা না করে আবারও কেবল কাটাছেঁড়ার পথে যাওয়া হয়েছে। এতে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে, যেখানে সংশোধিত সংবিধান আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে স্থগিত কিংবা বাতিল হয়ে যেতে পারে। ফলে জনগণের সব আকাঙ্ক্ষাই ভেস্তে যেতে পারে। এমন নীলনকশার পথে বাংলাদেশকে যেতে দেওয়া যায় না।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান সংবিধানের দোহাই দিয়ে একজন স্বৈরাচারের সহযোগী, অর্থ পাচারকারী, ব্যাংক লুট ও দখলের সঙ্গে জড়িত এবং গণহত্যার সহযোগী সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে। শাহাবুদ্দিন চুপ্পু নিজেও বলেছেন, যারা তাকে গ্রেপ্তারের কথা বলছেন তারা যেন সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ দেখে। আবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বলেছেন, রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তার করা যায় না। কিন্তু আমরা বলতে চাই, সাহাবুদ্দিন চুপ্পু পদত্যাগ করার পরও কি তিনি রাষ্ট্রপতি আছেন? বর্তমানে তো দায়িত্ব পালন করছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মাননীয় স্পিকার। আমরা বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তারের কথা বলছি না। আমরা বলছি, যিনি আর রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে নেই, তাকে গ্রেপ্তারে ৫১ অনুচ্ছেদ কোনো সুরক্ষা দেয় না।
অতীতের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশে স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা ছাড়ার ছয় দিনের মাথায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। অতীতের যদি নজির থাকে, সেই নজির থাকা শর্তেও এমন ধরনের কথা বলা মূর্খতার সামিল। জনগণকে আর মূর্খ করে রাখা যাবে না। জনগণ এটা জানে, এই বাংলাদেশে যারা স্বৈরাচার কায়েম করেছিল, তাদের সব থেকে বড় দোসর ছিল এই সাহাবুদ্দিন চুপ্পু।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রপতির কাছেও গিয়েছিল কোটা ইস্যুর সমাধানের জন্য। কিন্তু রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে তিনি শিক্ষার্থীদের পক্ষে অবস্থান নেননি। তাই আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদের দোহাই দিয়ে শাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে গ্রেপ্তার ঠেকানো যাবে না। তার ক্ষেত্রে ওই অনুচ্ছেদের কোনো আইনি সুরক্ষা আর অবশিষ্ট নেই।
পথসভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, যুগ্ম আহ্বায়ক সরওয়ার তুষার, যুগ্ম সদস্য সচিব মোল্লা ফারুক আহসান শুভ্র, যুগ্ম সদস্য সচিব ও খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদুল হক, জাতীয় নারীশক্তির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতুসহ কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারা।
বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। পথসভায় জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা এনসিপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
