যুবককে হানিট্র্যাপে ফেলে টাকা দাবি, দুই নারীসহ পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার

প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৬, ১৩:১১ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে হানিট্র্যাপের ফাঁদে ফেলে সাইমন ইসলাম নামে এক যুবককে একটি ফ্ল্যাটে আটকে নির্যাতন ও টাকা দাবি করার অভিযোগে দুই নারীসহ এক পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন তল্লাশি করে একাধিক আপত্তিকর ছবি-ভিডিও এবং হানিট্র্যাপের বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গ্রেপ্তাররা হলেন—পাপিয়া আক্তার (২৬), তার স্বামী সজীব মিয়া এবং সহযোগী মাসুমা আক্তার (২৪)। সজীব ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তরে কর্মরত। তিনি বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত রয়েছেন।

পুলিশ জানায়, কালিয়াকৈর পৌরসভার বিশ্বাসপাড়া এলাকার একটি আবাসিক ভবনে পাপিয়া, তার স্বামী সজীব ও মাসুমা দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন উপায়ে তারা বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে হানিট্র্যাপের মাধ্যমে প্রতারণা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সাইমন ইসলামকে বিশ্বাসপাড়া এলাকার মদিনা নামের একটি ভবনের সপ্তম তলায় পাপিয়ার কক্ষে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে আটকে রেখে মারধর ও টাকা দাবি করা হয় বলে জানায় পুলিশ।

একপর্যায়ে সাইমন কক্ষের ভেতর থেকে বারান্দায় গিয়ে নিজেকে নিরাপদে রেখে চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে এবং পুলিশে খবর দেয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছালে সজীব উল্টো সাইমনের বিরুদ্ধে তার স্ত্রীকে হেনস্তার অভিযোগ তোলেন।

তবে তদন্তে পুলিশের সন্দেহ হলে সজীবের কাছ থেকে একটি হ্যান্ডকাফ ও পুলিশের কটি (জ্যাকেট) উদ্ধার করা হয়। পরে অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন তল্লাশি করে হানিট্র্যাপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে তিনজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়।

কালিয়াকৈর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, "আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"