হাসপাতালের সেবা নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিমন্ত্রী, তত্ত্বাবধায়ককে কড়া হুঁশিয়ারি
প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০২৬, ১৯:৪৪ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

রাজবাড়ী ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসাসেবার মান, জনবল সংকট ও উন্নয়নকাজের ধীরগতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।
হাসপাতালের সার্বিক সেবার মান উন্নয়নে একাধিক নির্দেশনা দিয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছেন, হাসপাতালে আপনার কাজের কোনো মনোযোগ দেখা যাচ্ছে না। জনগণকে সেবা দিতে না পারলে এই দায়িত্বে থাকার প্রয়োজন নেই। কাজ করতে না পারলে চলে যান।
সোমবার (২০ জুলাই) সকাল ১০টায় রাজবাড়ী ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় জানানো হয়, ২৫০ শয্যার হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এখনো পুরোপুরি সরবরাহ করা হয়নি। হাসপাতালের জন্য প্রায় ১০ কোটি টাকার আসবাবপত্র কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৬ কোটি টাকার ফার্নিচারের টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ৫ কর্মদিবসের মধ্যে ৩ সদস্যের একটি কমিটি টেন্ডার কার্যক্রম পর্যালোচনা করবে।
সভায় আরও জানানো হয়, দেড় বছর ধরে চক্ষু বিভাগের কনসালট্যান্ট ও জুনিয়র কনসালট্যান্ট না থাকায় চক্ষু বিভাগে সেবা বন্ধ রয়েছে। দুই বছর ধরে মেডিসিন ও কার্ডিওলজি বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট চলছে। ফলে হৃদরোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সম্প্রতি যোগ দেওয়া ১৪ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মধ্যে মেডিসিন বিভাগে একজন যোগ দিলেও, কার্ডিওলজি বিভাগের চিকিৎসক এখনো দায়িত্ব গ্রহণ করেননি।
হাসপাতালের জনবল সংকটের বিষয়টিও সভায় গুরুত্ব পায়। জানানো হয়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসক এনে হাসপাতালের কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল। অনুমোদিত ৬৮টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ২৬ জন। অর্থাৎ ৪২টি চিকিৎসক পদ শূন্য। এ ছাড়া চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলিয়ে মোট ২৬২টি পদের মধ্যে ৮৩টি পদ এখনো শূন্য রয়েছে। গত মাসে ১২ জন মেডিকেল অফিসার পদায়ন হলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন ৯ জন। আদেশ জারির এক মাসের মধ্যেই তিনজন অন্যত্র চলে যান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালের ভবনের নির্মাণকাজ বর্তমানে অষ্টম তলা পর্যন্ত হয়েছে। নবম থেকে দ্বাদশ তলার নির্মাণকাজ দ্রুত শুরু করতে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ নিতে হবে। একইসঙ্গে নতুন যন্ত্রপাতি ক্রয় ও ব্যবহারে নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।
সভায় হাসপাতালের ২৫০ শয্যার পূর্ণ কার্যকারিতা নিশ্চিত, আইসিইউ চালু, মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য পৃথক কেবিন ও এসি স্থাপন, চিকিৎসা ভাতা দ্রুত বিতরণ এবং হাসপাতালকে দালালমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।
এ ছাড়া হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অ্যাম্বুলেন্স পার্কিং নিষিদ্ধ, মোটরসাইকেলের জন্য এক মাসের মধ্যে গ্যারেজ নির্মাণ, হাসপাতালের দালালদের তালিকা করে পুলিশের কাছে দেওয়া, ময়নাতদন্ত কক্ষ হাসপাতাল চত্বরে স্থানান্তর, ওষুধের মজুত ও বিতরণ কার্যক্রম সাপ্তাহিকভাবে মনিটরিং এবং হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বাগান ও বৃক্ষরোপণের নির্দেশনা দেন তিনি।
তিনি বলেন, হাসপাতালের প্রতিটি কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করতে হবে। দায়িত্ব পালনে গাফিলতি বা অবহেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সেবার মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও পৌর প্রশাসক কল্যাণ চৌধুরী, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. তারিফ-উল-হাসান, গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম তৌহিদুল ইসলাম, জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক আবু নছর মোহাম্মদ কদর উদ্দিন, জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু সালেহ মোহাম্মদ আলী আহসান, রাজবাড়ী পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল হকসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবার খোঁজখবর নেন।
আমার বার্তা/এমই
