গজারিয়া সাবরেজিস্টার অফিস আওয়ামী লীগ নেতা কালা লিয়াকত সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি
পর্ব -২
প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৬, ১৬:৫৬ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক:

দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে আওয়ামিলীগ নেতা আবুল কালাম ওরফে কালা লিয়াকত সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে আছে মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া সাবরেজিস্টার অফিসটি । এই সিন্ডিকেটের নির্দেশের বাইরে এখানে কোন দলিল সম্পাদনা হয়না। অভিযোগ রয়েছে এই সিন্ডিকেটকে নির্দিষ্ট কমিশন দিয়ে, তবেই দলিল সম্পাদন করতে হয় এখানে কর্মরত অন্যান্য দলিল লেখকদের। সরকার আসে, সরকার যায়, সাবরেজিস্টার আসে, সাবরেজিস্টার যায় কিন্তু ক্ষমতার নুন্যতম ভাটা পড়েনি লিয়াকত সিন্ডিকেটের। প্রতিষ্ঠানটিতে জিম্মি করে বিভিন্ন অবৈধ পথে আজ শত কোটি টাকার মালিক এই লিয়াকত সিন্ডিকেট।
জুলাই ছাত্র গণআন্দোলনের একাধিক গনহত্যার মামলার আসামি আওয়ামিলীগ নেতা লিয়াকত। আট মামলায় জেল হাজতে ছিলেন দীর্ঘ প্রায় সাত মাস। জামিনে জেল হাজত থেকে বের হয়েই ফের নিয়ন্ত্রণে নেয় সাবরেজিস্টার অফিস। এদিকে তার সিন্ডিকেটের সকল সদস্যই আবার স্থানীয় আওয়ামীলীগের ত্যাগী, পরীক্ষিত এবং সক্রিয় নেতা। এই সিন্ডিকেটে সদস্য হিসাবে কাজ করছে গজারিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের অন্যতম সদস্য হোগলাকান্দি গ্রামের মো: সেলিম ও লক্ষীপুর গ্রামের ওয়ার্ড আওয়ামিলীগের সাধারণ সম্পাদক মো: জাকির । তিন জনেই আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতা কিন্তু স্থানীয় বিএনপির কতিপয় নেতাকে ম্যানেজ করে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছে সাবরেজিস্টার অফিসে।
গজারিয়ার প্রানকেন্দ্র ভবেরচর বাসস্ট্যান্ডের সমিতির মার্কেটের দোতালায় রয়েছে তাদের নিজস্ব অফিস । মুলত এই অফিসে বসেই আওয়ামী নেতাদের সাথে রাজনৈতিক কানেকশন করছে এই সিন্ডিকেট । এদিকে বিষয়টি নিশ্চিত না হলেও এলাকায় গুন্জন উঠেছে ২২ জুন ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাউশিয়া এলাকায় আওয়ামীলীগের যে মিছিল হয়েছে সেখানে অর্থের যোগানদাতাও এই সিন্ডিকেট । এই মিছিলের কারণে গজারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী এলাকা ছাড়া কিন্তু এলাকায় বহাল তবিয়তে এই তিন আওয়ামী লীগ নেতা। তাদের বিষয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতারাও শোশাল মিডিয়ায় একাধিকবার প্রতিবাদ জানিয়েছে, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতার সাথে কথা হয় আমার বার্তার । নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক উপজেলা বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, লিয়াকত, সেলিম, জাকির সকলেই উপজেলা আওয়ামীলীগের সক্রিয় এবং ত্যাগী নেতা, তা সর্বজন স্বীকৃত। তাহলে এই আওয়ামী সিন্ডিকেট কিভাবে সাবরেজিস্টার অফিস নিয়ন্ত্রণ করছে, এরকম প্রশ্নে স্থানীয় বিএনপির নেতাদের সোজা উত্তর, শুধুই টাকার বিনিময়ে।
আমার বার্তা/এমই
