চট্টগ্রাম শিপইয়ার্ডে ৬০ কোটি টাকার আমদানি করা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২৬, ১৭:১৪ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার জেরে এক নজিরবিহীন সংকটে পড়েছে বাংলাদেশের জাহাজ ভাঙা (শিপব্রেকিং) শিল্প। ভাঙার জন্য আমদানি করা ‘মেমেই’ নামের একটি বিশাল কেমিক্যাল ট্যাংকার জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এর ফলে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে (আউটার অ্যাঙ্করেজ) আটকে আছে এবং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এটিকে সৈকতে বা ইয়ার্ডে ভেড়াতে পারছে না। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রায় ৬০ কোটি টাকা মূল্যের এই জাহাজটি ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘এসএন কর্পোরেশন।’

আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন সংক্রান্ত প্রতিবেদন ও জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, ৪৪ হাজার ৮০০ টন ধারণক্ষমতার এই কেমিক্যাল ট্যাংকারটি নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঠিক আগ মুহূর্তে স্ক্র্যাপ (ভাঙার জন্য) হিসেবে বিক্রি করা হয়েছিল। গত ২২ মে জাহাজটি চট্টগ্রামের বহির্নোঙরে এসে পৌঁছায়। কিন্তু এর মাত্র ছয় দিন পর, গত ২৮ মে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের অংশ হিসেবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং ‘অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল’ (ওএফএসি) জাহাজটিকে কালো তালিকাভুক্ত বা নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।

মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এই ‘মেমেই’ জাহাজটি ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহনে জড়িত ছিল। ওয়াশিংটন কেবল এই জাহাজের ওপরই নিষেধাজ্ঞা দেয়নি, বরং এর হংকং-ভিত্তিক মালিক ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠান ‘এভার শাইনিং লিমিটেড’ এবং তাদের নিয়ন্ত্রিত ‘ফ্লোরা’ নামের আরও একটি জাহাজের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। 

জাহাজ রিসাইক্লিং বাজারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেমেই জাহাজটি ভাঙার আনুমানিক মূল্য ছিল প্রায় ৪৯ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

নৌপরিবহন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘ট্রেড উইন্ডস’ ও স্থানীয় শিপিং এজেন্টরা বলছেন, আমদানির পর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে স্ক্র্যাপ জাহাজ ইয়ার্ডে তুলতে না পারার এমন ঘটনা বাংলাদেশের জাহাজ ভাঙা শিল্পে অত্যন্ত বিরল এবং নজিরবিহীন। এর ফলে একদিকে যেমন দেশীয় আমদানিকারক বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও এক ধরনের অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এস এন কর্পোরেশনের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপক (অ্যাডমিন ম্যানেজার) ওমর ফারুক জানান, আন্তর্জাতিক ও আইনি জটিলতার কারণে জাহাজটিকে বর্তমানে সৈকতে ভেড়ানো যাচ্ছে না। এটি সমুদ্রে নোঙর করা অবস্থায় রয়েছে। আমরা এখনো ফান্ড দেইনি। পরিস্থিতি বিবেচনায় জাহাজটি ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।


আমার বার্তা/এমই