কিস্তির টাকা জোগাড় করতে হত্যার পর গয়না লুট, রাজমিস্ত্রি গ্রেপ্তার
প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৬, ০৯:৩৬ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন

ফেনী সদর উপজেলার শর্শদিতে নির্মাণাধীন ঘরের বালুর স্তুপের নিচে চাপা দেওয়া প্রবাসীর স্ত্রী রিনা আক্তার হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত রাজমিস্ত্রি সাইফুল ইসলামকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিস্তির টাকা জোগাড় করতে হত্যার পর স্বর্ণালংকার লুটের কথাও স্বীকার করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ফেনী পিবিআই পুলিশ সুপার উক্য সিংহ।
গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম (২৯) ফেনী সদর উপজেলার শর্শদি ইউনিয়নের মোহাম্মদ আলী বাজার এলাকার আবুল খায়েরের ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি।
পিবিআই জানায়, গত ১২ মে বিকেলে শর্শদি ইউনিয়নের পশ্চিম জোয়ারকাছাড় এলাকায় প্রবাসী মোহাম্মদ মানিকের স্ত্রী রিনা আক্তার (৪৪) নির্মাণাধীন ভবনে পানি দিতে যান। সন্ধ্যার পরও তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে নির্মাণাধীন ঘরের মেঝেতে থাকা বালুর স্তুপের নিচে তার মরদেহ দেখতে পান স্বজনরা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মহরম আলী বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রিনা আক্তার তার স্বামীর ক্রয়কৃত জমির পাশের একটি ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। পাশেই তাদের নতুন বাড়ির নির্মাণ কাজ চলছে। ঘটনার দিন বিকেলে ছোট ছেলে রাজু মাকে খুঁজতে গিয়ে নির্মাণাধীন ঘরে কর্মরত রাজমিস্ত্রি সাইফুল ইসলামকে দেখতে পান। মায়ের অবস্থান জানতে চাইলে সাইফুল তাকে ফুফুর বাড়িতে যাওয়ার কথা বলেন। একই সঙ্গে কাজের টাকাও দিতে বলেছিলেন তিনি। পরে রাজু বিষয়টি তার বোনকে জানালে তারা দুজন নির্মাণাধীন ঘরে গিয়ে বালুর নিচে মায়ের মরদেহ দেখতে পান।
এ ঘটনার পর থেকে নির্মাণশ্রমিক সাইফুল ইসলাম পলাতক ছিলেন। মামলার তদন্তভার পেয়ে পিবিআই ফেনী কার্যালয়ের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান শুরু করে। একপর্যায়ে বুধবার (১৩ মে) দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজীদ বোস্তামি থানার চৌধুরী নগর আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করতে পারায় কয়েকদিন ধরে মানসিকভাবে হয়রানির মধ্যে ছিলেন। এই কিস্তির টাকা সংগ্রহের জন্য পরিকল্পিতভাবে রিনা আক্তারকে হত্যা করেন। ঘটনার দিন বিকেলে রিনা আক্তার নির্মাণাধীন ভবনে পানি দিতে গেলে স্বর্ণালঙ্কার লুটের উদ্দেশ্যে সাইফুল তাকে গলা চেপে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে মরদেহ ঘরের ভেতরে থাকা বালুর স্তুপের নিচে চাপা দিয়ে পালিয়ে যান।
হত্যার পর নিহতের কানে থাকা এক জোড়া স্বর্ণের দুল খুলে নিয়ে মোহাম্মদ আলী বাজারে সাড়ে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেন বলেও স্বীকার করেন তিনি। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্বর্ণের দোকান থেকে ওই দুল উদ্ধার করেছে পিবিআই।
পিবিআই ফেনীর পুলিশ সুপার উক্য সিং বলেন, চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে শুক্রবার (১৫ মে) আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া চলছে। আসামি সাইফুল প্রাথমিকভাবে সব স্বীকার করেছে। আদালতে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেবেন।
