দৌলতদিয়ায় দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে যা বলল তদন্ত কমিটি
প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৮:৩১ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস পদ্মায় ডুবে যাওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন থেকে গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির দল শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এ সময় তারা প্রতক্ষ্যদর্শী, স্থানীয় এলাকাবাসী, বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি, ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশের সঙ্গে কথা বলেন। এ ছাড়া, স্পিডবোট নিয়ে তারা ৩নং ফেরিঘাট এলাকা ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং ৩নং ফেরিঘাটের পন্টুনটি পরিদর্শন করেন।
বাস দুর্ঘটনার জন্য দায়ি কারা, এমন প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস বলেন, এই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও বিভিন্ন সুপারিশের জন্য জেলা প্রশাসন রাজবাড়ী ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। যেহেতু তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলমান, অনেক ডিপার্টমেন্ট এখানে জড়িত। তাই বাস দুর্ঘটনায় জন্য কে দায়ি, সে বিষয়ে এখন আমি কোনো মন্তব্য করতে পারবো না। আমরা তদন্ত কমিটির যারা রয়েছি, তারা তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেব।
তিনি আরও বলেন, উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে আজকের উদ্ধারকারী দল ঘাটের পন্টুন সরিয়ে তল্লাশি করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযান চলমান। তবে এখন পর্যন্ত কেউ কোনো দাবি করেনি তার স্বজন নিখোঁজ রয়েছে। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ রয়েছে, তাদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বাসে কতজন যাত্রী ছিল, এমন প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ও গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস বলেন, বাসের যে টিকিট বিক্রি হয়েছিল এবং বিভিন্ন কাউন্টার থেকে যে যাত্রী উঠেছিল সেই হিসেবে সেখানে ছিল ৪০ জন এবং চালক ও হেলপার মিলে হয় ৪২ জন। এটা যেহেতু যাচাই সাপেক্ষ বিষয়, তদন্ত কার্যক্রমও চলমান সেহেতু আমরা এক্সাক্টলি বলতে পারছি না কতজন যাত্রী ছিল। যেহেতু ঈদ-পরবর্তী সময়, যাত্রীদের চাপ থাকে, কাউন্টার ছাড়া যাত্রী উঠেছিল কিনা সে বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
তদন্ত কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে বলেন, আপনারা জানেন তিন কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বাস ডুবে যাওয়ার ঘটনার দিন থেকেই আমাদের তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আমাদের সংশ্লিষ্ট ইউএনও বার বার ঘটনাস্থলে আসছেন। বিভিন্ন বিষয়ে আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। প্রত্যক্ষদর্শীসহ যারা যারা আছেন সার্বিক বিষয়ে আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলছি।
তিনি আরও বলেন, এখানে আমাদের ফেরি ব্যবস্থাপনাসহ আধুনিকায়নসহ যে যে বিষয়গুলো এসেছে সেগুলোতে পলিসিগত একটা বিষয় আছে। আমাদেরকে তদন্তের জন্য দেওয়া হয়েছে। আমরা সার্বিক বিষয় অবজারভ করে তদন্ত প্রতিবেদনে উঠিয়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করবো।
তড়িঘড়ি করে ৩ নম্বর ঘাটের অ্যাপ্রোচ সড়ক সংস্কার করা হচ্ছে কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অ্যাপ্রোচ সড়কের বিষয়ে সড়ক বিভাগ ও বিআইডব্লিউটিএ যারা আছেন তারা বিষয়টি দেখেন। যেহেতু এটা তাদের পার্ট তারাই ভালো বলতে পারবে।
রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা বলেন, এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কেউ এসে নিখোঁজের দাবি করেনি। তারপরও আমরা তল্লাশি চালাচ্ছি আরও মরদেহ আছে কিনা তা দেখতে।
পরিদর্শনকালে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে, সদস্য সচিব গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস, সদস্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) শামসুল হক, বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. সালাহউদ্দিন, রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানাসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আমার বার্তা/এমই
