সড়ক দুর্ঘটনায় বাবার পর প্রাণ হারালেন কলেজছাত্র সাইদুর
প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:২৫ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন

বাবার সঙ্গে দোকানে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়া সাইদুর রহমান ছয় দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছিলেন তার বাবা শফিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের আইসিউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সাইদুর রহমান।
নিহত সাইদুর রহমান নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের বড় রামদেবপুর গ্রামের মৃত শফিকুর রহমানের ছেলে। তিনি নোয়াখালী সরকারি কলেজের অনার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ছাত্রদল কর্মী ছিলেন।
জানা যায়, গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সুন্দলপুর ইউনিয়নের ট্রান্সমিটার এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় তার বাবা শফিকুর রহমান নিহত হন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোনাপুর থেকে কবিরহাটগামী একটি তেলবাহী ট্রাক ট্রান্সমিটার এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এ সময় ট্রাকটি রাস্তার পাশে একটি দোকানে ঢুকে পড়ে। এতে শফিকুর রহমান ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং সাইদুর রহমান অন্তত তিনজন আহত হন।
স্থানীয়রা জানান, শফিকুর রহমান তার দুই সন্তানকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে দোকানের সামনে আসেন। এ সময় মাইজদী–সোনাপুর সড়ক দিয়ে আসা তেলবাহী ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেল ও শফিকুর রহমানকে ধাক্কা দিয়ে দোকানের ভেতরে ঢুকে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় দুই সন্তানকে প্রথমে মাইজদী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সাইদুর রহমানের অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় রেফার করা হয়।
দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে কিছু সময় ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সাইদুর রহমানের বড় বোন সুমি আক্তার বলেন, ভাই ছয় দিন ধরে লাইফ সাপোর্টে ছিল। আমরা সবাই তার সুস্থতার জন্য অপেক্ষা করছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে আর ফিরে পেলাম না। এক সড়ক দুর্ঘটনায় আমরা বাবা এবং ভাইকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছি।
সাইদুরের বন্ধু ইখতিয়ার হোসেন বলেন, সাইদুর খুব মিশুক ও মানবিক একজন মানুষ ছিল। ছয় দিন হাসপাতালে থাকলেও তার জ্ঞান আর ফেরেনি। চিকিৎসার জন্য সবাই সহযোগিতা করলেও আমরা তাকে বাঁচাতে পারলাম না। আমরা একজন বিশ্বস্ত বন্ধুকে হারালাম।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, গতকাল আমি হাসপাতালে গিয়ে তাকে দেখে এসেছি। সে জাতীয়তাবাদী আদর্শের কর্মী ছিল। তার চিকিৎসায় বিএনপি ও ছাত্রদল পাশে ছিল। তার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।
কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজামুল উদ্দিন ভুঁইয়া বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে সড়ক পরিবহন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার ঘাতক ট্রাকচালককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
