ডিবির অভিযানে নারীসহ দুই মাদক কারবারি আটক ১৪০০ ইয়াবা উদ্ধার
প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:৪৬ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন

চট্টগ্রাম নগরীতে ইয়াবা বিক্রির প্রস্তুতিকালে হাতেনাতে গ্রেপ্তার কক্সবাজার ও বান্দরবানের দুই আসামি চট্টগ্রাম মহানগরীতে মাদকবিরোধী অভিযানে আবারও বড় সাফল্য পেয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।বায়েজীদ বোস্তামী থানাধীন রুবিগেইট সিএন্ডবি মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে নারীসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ।অভিযানে তাদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১৪০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট।উদ্ধারকৃত ইয়াবার বাজারমূল্য প্রায় দুই লক্ষ আশি হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ দুপুরের দিকে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা বন্দর ও পশ্চিম বিভাগের একটি বিশেষ দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন এসআই নিরস্ত্র মোঃ ইমাম হোসেন।তার সঙ্গে অভিযানে অংশ নেন এএসআই নিরস্ত্র মোঃ মেজবাহুল মাওলা এএসআই নিরস্ত্র মোঃ রেজাউল করিম কনস্টেবল মোঃ ফয়েজ উল্যাহ কনস্টেবল মোঃ জাবেদ কনস্টেবল মোঃ খলিলুর রহমান কনস্টেবল মোঃ জুনায়েদ ভূঁইয়া কনস্টেবল মোঃ গিয়াস উদ্দিনসহ নারী কনস্টেবল সাবিনা ইয়াসমিন ও আফরিন আক্তার।
ডিবি সূত্রে জানা যায় চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা বন্দর ও পশ্চিম বিভাগের সাধারণ ডায়েরি নম্বর ৩১৪ ২০২৬ এবং এমসিসি নম্বর ২২৯ ২০২৬ এর আলোকে মহানগর এলাকায় বিশেষ অভিযান চলাকালে দুপুর আনুমানিক ৩টা ১০ মিনিটে বায়েজীদ বোস্তামী থানাধীন রুবিগেইট এলাকায় দুই ব্যক্তি ইয়াবা বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে এমন গোপন সংবাদ পাওয়া যায়।
সংবাদটি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলে তাদের নির্দেশে একটি চৌকস টিম ঘটনাস্থলে রওনা হয়।
ডিবি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুইজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি কৌশলে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে।তবে সঙ্গীয় ফোর্সের তৎপরতায় তাদের দ্রুত আটক করা হয়।পরে স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে দেহ তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন ছাবেকুন নাহার বয়স ৪৫ বছর স্বামী মোঃ আব্দুল গফুর সাং তুমব্রু পশ্চিমকুল গফুর মিস্ত্রির বাড়ি বালুখালী ইউপি থানা নাইক্ষংছড়ি জেলা বান্দরবান এবং মোঃ শফিউল বশর প্রকাশ আফসার উদ্দিন বয়স ২৬ বছর পিতা নুর আহাম্মদ সাং হলুদিয়া পালং রুমখাঁ বড়বিল পশ্চিম নুর আহাম্মদের বাড়ি থানা উখিয়া জেলা কক্সবাজার।
পুলিশ জানায় ছাবেকুন নাহারের ডান হাতে থাকা একটি ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে চারটি নীল রঙের বায়ুরোধক পলিব্যাগ উদ্ধার করা হয়।প্রতিটি পলিব্যাগে ছিল ২০০ পিস করে মোট ৮০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট।অপরদিকে মোঃ শফিউল বশরের পরনের নীল রঙের জিন্স প্যান্টের ডান পকেট থেকে তিনটি নীল রঙের বায়ুরোধক পলিব্যাগ উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি পলিব্যাগে ছিল ২০০ পিস করে মোট ৬০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট।
পুলিশ আরও জানায় প্রতিটি ইয়াবা ট্যাবলেটের ওজন দশমিক শূন্য এক গ্রাম হিসেবে মোট ওজন দাঁড়ায় ১৪০ গ্রাম। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য দুই লক্ষ আশি হাজার টাকা।এসব ইয়াবা বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজেদের হেফাজতে রেখেছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে আসামিরা।
উদ্ধারকৃত ইয়াবা ট্যাবলেট ঘটনাস্থলেই সাক্ষীদের উপস্থিতিতে জব্দ তালিকা মূলে জব্দ করা হয়। জব্দ তালিকায় উপস্থিত সাক্ষীদের স্বাক্ষর গ্রহণ করা হয় এবং অভিযানের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তা নিজেও স্বাক্ষর করেন। পরে গ্রেপ্তারকৃত আসামি ও জব্দকৃত আলামত ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায় কক্সবাজার জেলা থেকে কম দামে ইয়াবা সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় অধিক মূল্যে বিক্রির উদ্দেশ্যে তারা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছিল।তারা দীর্ঘদিন ধরে এই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলেও পুলিশ ধারণা করছে।
ডিবি পুলিশ সিডিএমএস যাচাই করে জানতে পারে দ্বিতীয় আসামি মোঃ শফিউল বশরের বিরুদ্ধে পূর্বেও একটি গুরুতর মামলা রয়েছে।তার বিরুদ্ধে কক্সবাজার জেলার উখিয়া থানায় এফআইআর নম্বর ৩৯ তারিখ ১৭ আগস্ট ২০২৫ জিআর নম্বর ৪২৫ এর একটি মামলা রয়েছে। মামলায় দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ১৪৩ ৪৪৭ ৩২৩ ৩২৫ ৩২৬ ৩০৭ ৩৫৪ ৪২৭ ৩৭৯ ৫০৬ ধারায় তাকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানায় গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৩৬ এক সারণির ১০ ক ধারায় অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বায়েজীদ বোস্তামী থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করার জন্য এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয় গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের নিয়ে আরও মাদক উদ্ধার অভিযানের পরিকল্পনা রয়েছে।তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন মাদক নির্মূলে ডিবি পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। নারী পুরুষ কেউই মাদক কারবারে জড়িত থাকলে ছাড় পাবে না।চট্টগ্রামকে মাদকমুক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
এলাকাবাসীরাও ডিবি পুলিশের এই অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির কারণে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্ক বিরাজ করছিল। এই ধরনের অভিযান নিয়মিত হলে মাদক কারবারিরা আর মাথাচাড়া দিতে পারবে না।
