ঢাকায় কসোভোর ১৮তম স্বাধীনতা দিবস পালিত

প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:৫১ | অনলাইন সংস্করণ

  রানা এস এম সোহেল:

ঢাকাস্থ কসোভো প্রজাতন্ত্রের দূতাবাস এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের ১৮ তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করেছে। গতকাল রোববার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ঢাকার একটি পাঁচতারা হোটেলে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

আরো গভীর দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার আহ্বান ও অনুষ্ঠানের শুরুতে দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং কসোভোর শুভাকাঙ্ক্ষীরা একত্রিত হন।

অনুষ্ঠানটির প্রধান অতিথি ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত কসোভো প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কসোভোর অর্জনসমূহ উদযাপন করা হয় এবং দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অংশীদারিত্বকে পুনঃনিশ্চিত করা হয়। তাঁর বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত প্লানা স্বাধীনতার পর থেকে কসোভোর অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক বিনিয়োগ, ডিজিটাল শাসনব্যবস্থার সংস্কার এবং শক্তিশালী আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের কথা উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত প্লানা বলেন: “কসোভো বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য অভিনন্দন জানাচ্ছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত। এই নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ আয়োজন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিপক্কতার প্রমাণ, এবং আমরা এই অর্জনের জন্য সকল বাংলাদেশীকে আন্তরিকভাবে অভিনন্দন জানাই। আমি নবনির্বাচিত সরকার এবং সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি কসোভোর অবিচল শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করছি। আমরা আমাদের অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করতে বাংলাদেশের নেতা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করছি।”

মন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ ও কসোভো সংগ্রাম, সহনশীলতা এবং সার্বভৌমত্বের আকাঙ্ক্ষার অভিন্ন অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেয়। তিনি বলেন, এই ঐতিহাসিক সাদৃশ্যগুলো দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে।

তিনি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি এবং জনগণের মধ্যে আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার জন্য বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেটের কথাও উল্লেখ করেন। ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন: “আমাদের দুই দেশের মধ্যকার বন্ধুত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় হোক।”

কসোভো প্রজাতন্ত্রের দূতাবাস বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ, কূটনৈতিক মহল এবং উপস্থিত সকল বিশিষ্ট অতিথিদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।


আমার বার্তা/এমই