ইবিতে শিক্ষিকা হত্যা: মৌন মিছিলে ন্যায়বিচারের দাবি ও শিক্ষক শিক্ষার্থীদের শোক

প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:৪২ | অনলাইন সংস্করণ

  ইবি প্রতিনিধি:

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের বিচার ও জড়িত সকল আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবিতে শোক ও প্রতিবাদ মৌন মিছিল করেছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। 

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় এ মৌন মিছিল করেন তারা। মিছিলটি অনুষদ ভবনের সামনে থেকে প্রশাসন ভবন প্রদক্ষিণ করে ডায়না চত্বর হয়ে আবার অনুষদ ভবনের সামনে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।

মিছিলে উপস্থিত ছিলেন, আল হাদিস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো মোজাহিদুর রহমান, ইসলামী ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. গফুর গাজী, অধ্যাপক মৌমিতা আক্তার, অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফারহা তানজিম তিতিল, বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তিয়াশা চাকমা, অধ্যাপক গাজী মোঃ মাহবুব মুর্শিদ, অধ্যাপক ড. মোঃ মনজুর রহমান, অধ্যাপক ড. রোজী আহমেদ পরিবেশ বিজ্ঞান ও ভূগোল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ইনজামুল হক সজল ও শতাধিক শিক্ষার্থী। 

এসময় তারা তিনটি দাবি উপস্থাপন করেন, ‘হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত’, ‘অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি’, ‘শিক্ষক শিক্ষার্থী সহ সকলের নিরাপত্তা’। 

এসময় শিক্ষার্থীদের হাতে বিচারহীনতার চর্চা বন্ধ করো, সাজিদ হত্যার বিচার চাই, হত্যার বিচার না‌ হলে নিরাপত্তা কোথায়, আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার বিচার চাই, শিক্ষকদের নিরাপত্তা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, নিরপেক্ষ তদন্ত চাই প্রতারণা মুক্ত বিচার চাই ইত্যাদি প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

অধ্যাপক ড. মোজাহিদুর রহমান বলেন, আমরা আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার দাবি জানাই। তার হত্যার প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়—তার সততা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধই তাকে এই নির্মম পরিণতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। তিনি অনিয়ম ও অনৈতিকতার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। রুনা ম্যাডাম যখন এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে চান, তখনই তার ওপর এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। তাই এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (৪ মার্চ) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়-এর থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের নিজ অফিস কক্ষে ছুরিকাঘাতে নিহত হন সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ইবি থানায় বিভাগের সাবেক কর্মচারী ফজলুর রহমানকে প্রধান আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন নিহতের স্বামী ইমতিয়াজুর সুলতান। পরে পুলিশ ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে।

এদিকে, ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক কর্মচারী ও উম্মুল মু’মিনিন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার এবং সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রধান আসামি ফজলুর রহমানকে ১ এপ্রিল আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।


আমার বার্তা/সাব্বির আহমেদ/এমই