ইবি শিক্ষিকা রুনা হত্যার বিচারের দাবিতে রাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০২৬, ১৫:৩৬ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাবেক শিক্ষার্থী ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে মানববন্ধন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে সমাজকর্ম সমিতি ও সমাজকর্ম বিভাগের উদ্যোগে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে ইবির সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার হত্যাকারী, হত্যার পেছনে কুশীলবদের চিহ্নিত করে তাদেরকে চরম দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং তার ছোট ছোট সন্তানের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় সরকারকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বানসহ ৩ দফা দাবি জানায় বিভাগের শিক্ষকরা। 

এসময় সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. তানজিমা জোহরা হাবিব বলেন, আমাদের সাবেক শিক্ষার্থী ইবি শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনাকে যেভাবে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হয়েছে, আজ আমরা তার প্রতিবাদ করার জন্য দাঁড়িয়েছি। এটা এমন একটি ঘটনা, যা মেনে নেওয়ার মতো না এবং বিশ্বাসযোগ্যও না। তার সহপাঠী জানেন, সে কতো নম্র-ভদ্র ছিল। আমি যতদূর জানি ও সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর নিয়মতান্ত্রিকভাবে তার বিভাগকে পরিচালনার চেষ্টা করেছিল। নিয়মতান্ত্রিকভাবে চলার ফলশ্রুতিতে তাকে প্রাণ দিতে হল। নৈতিকভাবে নিজের দায়িত্ব পালন করা যদি অপরাধ হয়ে যায়, তাহলে আমরা সবাই তো অপরাধী। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার চাই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরে প্রশাসক অধ্যাপক ড.আখতার হোসেন মজুমদার বলেন, এরকম একজন অমায়িক, নম্র এবং ভদ্র শিক্ষিকা কী কারণে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। আমরা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ দেখতে চাই। বাংলাদেশ সরকারের যারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার দায়িত্বে আছে, তাদের পদক্ষেপ দেখতে চাই। অবিলম্বে আমরা চাই, যার কারণে যে বিভাগের অদক্ষতার কারণে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, তাদেরকে চিহ্নিত করে খুনি এবং খুনি চক্রকে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আসবে।

বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক গোলাম কিবরিয়া ফেরদৌস বলেন, সাদিয়া রুনার ছোট ৩টা বাচ্চা আছে। সে একজন শুধু মা না, বিভাগের সভাপতি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অংশ এবং আমাদের শিক্ষকসমাজের একজন প্রতিনিধি। সারা দেশে গত এক মাসে সাদিয়া রুনা হত্যার মতো নারী হত্যা-নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। আমরা পরিতাপের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, যখন এরকম কোনো ঘটনা ঘটে তখন সরকারের তদন্ত হয়, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কথা বললেও এক-দুই মাসের জেল-জুলুম দিয়ে কোনো বড় ভাই বা গডফাদারের প্রেক্ষাপটে তারা জামিনে বের হয়ে আসে। একইভাবে তাদের অপকর্মের পুনরাআবৃত্ত করতে থাকে। এটাই বাংলাদেশে কালচার হয়ে গিয়েছে। আমরা এ ধরনের শাস্তি দেখতে চাই না।

মানববন্ধনে সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, এ হত্যা আমাদের দেশের শিক্ষক সমাজের নিরাপত্তাহীনতার একটি চিহ্ন। এই ঘটনার খুনি বেঁচে আছে, এখনও আমার দৃষ্টিতে তার বিচার তার ফাঁসি পর্দার আড়ালে না হয়ে এমনভাবে হোক যেন, তার শাস্তি দেখে মানুষ শিক্ষা পায়।

প্রসঙ্গত, গত ৪ মার্চ বেতন নিয়ে ঝামেলা ও অন্য বিভাগে বদলির জেরে নিজ বিভাগের কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে নিহত হন ইবি শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনা। 


আমার বার্তা/এমই